গেরুয়া পালাবদলের ঝড়ে কাঁপল ,কালিয়াগঞ্জ পুরসভা!ইস্তফা দিলেন তৃণমূল পরিচালিত কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি বিজু কুন্ডু, রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড় ধাক্কা খেল উত্তর দিনাজপুর জেলার তৃণমূল পরিচালিত কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা। হঠাৎই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি বিজু কুন্ডু। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।সূত্রের খবর, রাজ্যের সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পৌরসভা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছিল বলে দাবি করেছেন বিজু কুন্ডু।
অবশেষে বাধ্য হয়েই তিনি ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান।পৌরপতি বিজু কুন্ডু বলেন,“দীর্ঘদিন মানুষের জন্য কাজ করেছি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে পৌরসভা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। নানা প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সেই কারণেই বাধ্য হয়েই আমি ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আমার সবসময় থাকবে।”তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সবসময় কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না।অন্যদিকে, এই ইস্তফা প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার উপ পৌরপতি জয়া বর্মন বলেন,“বিজু কুন্ডুর ইস্তফা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি দীর্ঘদিন অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পৌরসভা পরিচালনা করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। আমরা চাই তিনি ভবিষ্যতেও মানুষের জন্য কাজ করুন।”তিনি আরও বলেন, পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ যাতে থমকে না যায় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বোর্ড।বিজু কুন্ডুর এই ইস্তফার ঘটনায় কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরেও। আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এখন সেদিকেই নজর জেলার রাজনৈতিক মহলের।


