কালিয়াগঞ্জে ‘মাটি কেলেঙ্কারি’ নিয়ে তোলপাড়, প্রাক্তন তৃণমূল পৌর বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি বিজেপির
কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে এবার ‘মাটি কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ তুলল বর্তমান বিজেপি পরিচালিত পৌর বোর্ড। শনিবার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিস্তা শিশু উদ্যানের পিছনে অবস্থিত পৌরসভার জমি পরিদর্শন করে বিজেপি বোর্ডের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী বোর্ডের আমলে ওই জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।এদিন পৌরসভার জমি পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি পরিচালিত পৌর বোর্ডের সদস্য বিভাস সাহা, গৌরাঙ্গ দাস, গৌতম বিশ্বাস এবং নন্দদুলাল দাস।
পরিদর্শনের পর তাঁদের অভিযোগ, পৌরসভার মূল্যবান জমি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কার নির্দেশে এই মাটি কাটা হয়েছে, কোথায় সেই মাটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে কারা জড়িত—তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তাঁরা।পৌর বোর্ডের সদস্যদের দাবি, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে সরানো হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মাটি অপসারণের ঘটনা কোনওভাবেই নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়।
ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।জানা গিয়েছে, কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিস্তা শিশু উদ্যানের পিছনে প্রায় ৫ বিঘা জমি রয়েছে, যা বর্তমানে পৌরসভার অধীনে। ২০২০ সালের শেষ দিকে কালিয়াগঞ্জে একটি রবীন্দ্র ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন পৌরপিতা তথা বর্তমান রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পালের উদ্যোগে রাজ্যের সেচ দপ্তর থেকে জমিটি পৌরসভার নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল।বর্তমান বিজেপি পরিচালিত পৌর বোর্ডের অভিযোগ, ওই জমির একাংশ থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও তার কোনও স্বচ্ছ নথি বা সরকারি ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। তাই গোটা বিষয়টির প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন তৃণমূল পরিচালিত পৌর বোর্ডের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।

