কালিয়াগঞ্জে দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক বৈঠক—ভোটের আগে বিজেপির ‘গ্রাউন্ড রিসেট’ কৌশল
তন্ময় চক্রবর্তী :- বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করার কাজে জোর দিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কালিয়াগঞ্জের নজমু নাট্য নিকেতনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিজেপির এক বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি শ্রী দিলীপ ঘোষ—যার রাজনৈতিক তাৎপর্য আলাদা করে নজর কেড়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির কাছে ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ একটি আসন। অতীতে এখানে দলের সংগঠন শক্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বুথ স্তরে কর্মীদের সক্রিয়তা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই ঘাটতিগুলি চিহ্নিত করে বুথ-ভিত্তিক সংগঠনকে ফের মজবুত করার দিকনির্দেশ দেওয়া হতে পারে।বিশেষ করে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের কাছে বার্তা দিচ্ছে—এবার আর ঢিলেমি নয়, বরং মাঠের রাজনীতিতে আগ্রাসী সংগঠনই বিজেপির মূল লক্ষ্য।

এই বৈঠকে মণ্ডল কমিটি থেকে শুরু করে শক্তি প্রমুখ, বুথ সভাপতি, পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত প্রার্থী, মোর্চা সভাপতি ও শক্তি কেন্দ্রের ইনচার্জ—সকল স্তরের নেতৃত্বকে একসঙ্গে ডাকা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে বিজেপি এবার ‘লিডার-সেন্ট্রিক’ নয়, ‘ক্যাডার-ড্রিভেন’ নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চাইছে।রাজ্যে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বরাবরই বুথ স্তরের সংগঠন, শৃঙ্খলা ও মাঠে উপস্থিতির উপর জোর দিয়ে এসেছেন। ফলে কালিয়াগঞ্জের এই বৈঠকে তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের জন্য কড়া বার্তা যেমন থাকতে পারে, তেমনি আগামী নির্বাচনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপও উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।বিজেপি সূত্রের খবর, আগের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোথায় সংগঠন দুর্বল হয়েছে, কোন এলাকায় ভোটের ব্যবধান কমেছে—সেসব খুঁটিনাটি বিষয় এই বৈঠকে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, বিরোধী দলের সংগঠন ও প্রচার কৌশল মোকাবিলায় কীভাবে আরও সক্রিয় হওয়া যায়, সে বিষয়েও কর্মীদের প্রস্তুত করা হবে।৪ নম্বর মণ্ডল কালিয়াগঞ্জের সভাপতি অপূর্ব রায় বলেন,“এই বৈঠক শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সভা নয়। আগামী নির্বাচনের আগে দলের প্রতিটি স্তরের কর্মীকে একসঙ্গে নিয়ে চলার দিকনির্দেশ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাই সকাল ১১টার মধ্যে সকলের উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য।”সব মিলিয়ে, কালিয়াগঞ্জের এই বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে এই সভা কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিজেপির ‘ফের সংগঠন চাঙা’ মিশনের সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।





