কালিয়াগঞ্জ রেলস্টেশনে এবার দার্জিলিংয়ের ‘টয় ট্রেন’! অমৃত ভারত প্রকল্পে বদলে গেল স্টেশনের চেহারা
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ:দার্জিলিং মানেই পাহাড়, মেঘ, সবুজের সমারোহ আর সেই সঙ্গে ছুটে চলা ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন। এবার সেই টয় ট্রেনের ঐতিহ্যের ছোঁয়া মিলল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ রেলস্টেশনে।
বাস্তবে পাহাড়ি পথে নয়, তবে রেলস্টেশনের সৌন্দর্যায়নের অংশ হিসেবে দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে কালিয়াগঞ্জ স্টেশনে। আর সেই দৃশ্যই এখন যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
একসময় যে কালিয়াগঞ্জ রেলস্টেশনকে দেখে মনে হতো শুধুই একটি সাধারণ স্টেশন, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের কাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই স্টেশনের চেহারাতেই এসেছে বড় পরিবর্তন। সৌন্দর্যায়ন, আধুনিক পরিষেবা এবং যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একের পর এক কাজ করা হয়েছে।

আর সেই সৌন্দর্যায়নের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের গর্ব দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনকে তুলে ধরা হয়েছে বিশেষভাবে।ফলে কালিয়াগঞ্জ স্টেশনে পা রাখলেই এখন যাত্রীদের চোখে পড়ছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যের এক টুকরো ছবি। শুধু টয় ট্রেনই নয়, জেলার বিভিন্ন ঐতিহ্য ও কুটিরশিল্পকেও শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের বিভিন্ন দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ধরনের শিল্পকর্ম। পাশাপাশি মুনি-ঋষিদের ছবি ও বিভিন্ন নান্দনিক চিত্রকর্মও স্টেশনের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।কালিয়াগঞ্জ স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। সেই তালিকায় রয়েছে কালিয়াগঞ্জও। ইতিমধ্যেই স্টেশনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাকি কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল পুরনো স্টেশনগুলিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সাজিয়ে তোলা। সেই অনুযায়ী যাত্রীদের জন্য উন্নত অপেক্ষাকক্ষ, উন্নত যাত্রী পরিষেবা, আধুনিক টিকিট ব্যবস্থা, স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রী চলাচলের সুবিধা, উন্নত পরিকাঠামো-সহ একাধিক পরিষেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কালিয়াগঞ্জ স্টেশনেও প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কাজ প্রায় সম্পূর্ণ।স্টেশনে আধুনিক টিকিট পরিষেবা চালু হওয়ায় যাত্রীদেরও সুবিধা হয়েছে। আগে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হলেও এখন আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।স্টেশন ম্যানেজারের কথায়, আধুনিক পরিষেবা চালু হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে রেল পরিষেবা ব্যবহারের আগ্রহও বেড়েছে। বিশেষ করে দ্রুত টিকিট পাওয়ার সুবিধায় যাত্রীরা যথেষ্ট উপকৃত হচ্ছেন।কালিয়াগঞ্জ স্টেশনের সৌন্দর্যায়নে শুধুমাত্র আধুনিকতার ছোঁয়া নয়, রাখা হয়েছে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেও। দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন তারই অন্যতম বড় উদাহরণ।উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ঐতিহ্যের সঙ্গে সমতলের কালিয়াগঞ্জকে যেন এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে। ফলে ট্রেন ধরতে আসা যাত্রীদের পাশাপাশি স্টেশনে আসা সাধারণ মানুষও দাঁড়িয়ে সেই টয় ট্রেনের প্রতিকৃতি দেখছেন, ছবি তুলছেন।তবে এত উন্নয়নের মধ্যেও কিছু ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন স্টেশন ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার। তাঁর অভিযোগ, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় স্টেশনের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য স্টিলের জলের কল লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেগুলির বেশ কিছু কল চুরি হয়ে গিয়েছে।শুধু তাই নয়, স্টেশনে বসানো জল পরিশোধন যন্ত্রেরও কল চুরি হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রীদের সুবিধার জন্য সরকারি উদ্যোগে তৈরি পরিকাঠামো এভাবে নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আক্ষেপ করেন তিনি।সব মিলিয়ে অমৃত ভারত প্রকল্পের হাত ধরে কালিয়াগঞ্জ রেলস্টেশন এখন যেন নতুন রূপে সেজে উঠছে। আধুনিক যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি স্টেশনের দেওয়াল ও পরিসরে উঠে আসছে উত্তর দিনাজপুরের কুটিরশিল্প, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য এবং দার্জিলিংয়ের গর্ব টয় ট্রেন।রেলের আধুনিকীকরণের সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। কয়েক বছর আগের কালিয়াগঞ্জ স্টেশন আর বর্তমান স্টেশনের মধ্যে যে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে, স্টেশনে পা রাখলেই তার ছবি স্পষ্ট।সৌজন্যে: ভারত সরকারের রেল মন্ত্রক।

