উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূলের ভরাডুবি: ফলাফল বেরোতেই নেতাদের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ‘উধাও’ ঘাসফুল!

তন্ময় চক্রবর্তী : ভোটের ফল ঘোষণা হতেই ভোলবদল উত্তর দিনাজপুর জেলার শাসক শিবিরের একাংশের। জেলায় আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবং নিজের নিজের এলাকায় তৃণমূলের লিড কমে যাওয়ায় রাতারাতি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে দলীয় প্রতীক ও পরিচয় সরিয়ে ফেলছেন অনেক নেতা। ফেসবুকের ওয়াল থেকে কার্যত ‘উধাও’ হয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবির ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।​ঠিক কী ঘটেছে?ভোটের আগে যে সমস্ত নেতাদের ফেসবুক প্রোফাইল ছেয়ে গিয়েছিল জোড়াফুলের ছবি, দলীয় স্লোগান আর উন্নয়নের প্রচারে, ফল প্রকাশের পর সেখানে এখন মরুভূমির নিস্তব্ধতা।​অনেক নেতা তাঁদের প্রোফাইল পিকচার (DP) বদলে ফেলেছেন।কেউ কেউ সরিয়ে দিয়েছেন দলের পদে থাকার পরিচয়।তৃণমূলের লোগো দেওয়া কভার ফটো বদলে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে ব্যক্তিগত ছবি বা প্রকৃতির দৃশ্য।কেন এই ‘ডিজিটাল’ অন্তর্ধাম?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পিছনে কাজ করছে মূলত তিনটি কারণ:ক্ষোভের ভয়: বুথ ভিত্তিক ফলের রিপোর্ট কার্ডে দেখা গিয়েছে, অনেক দাপুটে নেতার নিজের বুথেই দল হেরেছে। নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ এবং ওপরতলার নেতাদের কাছে জবাবদিহি করার ভয়েই এই কৌশল।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: হারের পর অনেক নেতার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পরিচয় মুছে ফেলা কি দলবদলের ইঙ্গিত? জেলা রাজনীতিতে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে।​জনরোষ এড়ানো: অনেক জায়গায় মানুষের মন বুঝতে ভুল করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হতে হচ্ছে নেতাদের। সেই বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতেই এই রাস্তা বেছে নিয়েছেন অনেকে।​”যাঁরা দুঃসময়ে দলের লোগো সরিয়ে ফেলছেন, তাঁরা আসলে বসন্তের কোকিল। মানুষের রায়কে সম্মান না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া কাপুরুষতার লক্ষণ।”— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা।
​বিরোধীদের কটাক্ষ​বিষয়টি নিয়ে টিপ্পনী কাটতে ছাড়েনি বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, উত্তর দিনাজপুরের মানুষ তৃণমূলের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। আর সেটা বুঝতে পেরেই নেতারা এখন ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছেন। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “ফেসবুক থেকে ঘাসফুল সরালেই মানুষের মন থেকে দুর্নীতির স্মৃতি মুছে যাবে না।”পরবর্তী পদক্ষেপ কী?ইতিমধ্যেই জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। কেন এবং কারা এই কাজ করছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের ফলের থেকেও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাদের এই ‘ভোলবদল’ উত্তর দিনাজপুরের চায়ের দোকানে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে