উত্তর দিনাজপুরে উন্নয়নের জোয়ার: মহিলা কলেজ, ডিগ্রি কলেজ ও ল’ কলেজের অনুমোদন, AIIMS দাবিতে জমির কাগজ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন সাংসদ কার্তিক পাল

 

তন্ময় চক্রবর্তী মালদা জেলায় আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভাতে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় মহিলা কলেজ ও হেমতাবাদ বিধানসভায় ডিগ্রী কলেজ এবং রায়গঞ্জ বিধানসভায় ল কলেজ অনুমোদন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।।

এই অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়তে পালিয়াগঞ্জ হেমতাবাদ এবং রায়গঞ্জ শহরে আপমার মানুষরা খুশিতে মেতে উঠে।। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষদের এই দাবিগুলো ছিল পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কাছে। কিন্তু সেই দাবিগুলো পূর্বতন সরকার পূরণ না করায় এলাকার সাধারণ মানুষরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তৃণমূল সরকারের উপর। কিন্তু রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার অর্থাৎ বিজেপির নেতৃত্বে সরকার এক মাস এর একটু বেশি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী কে পূর্ণতা দেওয়ায় সাধারণ মানুষরা অভিনন্দন জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে। পাশাপাশি এদিন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল কে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে দিতে রায়গঞ্জ তথা এত অঞ্চলের মানুষের আবেগ এইমস হাসপাতাল করার জন্য প্রয়োজনীয় জমির কাগজ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে দেন। স্বভাবতই এলাকার মানুষরা আরও খুশি হয়ে মেতে উঠেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য ডবল ইঞ্জিন সরকার এর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন যে কতটা হতে পারে তা কিন্তু ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্যমূলক আচরণে মুগ্ধ তৃণমূল বিধায়করা। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের চার জেলা— মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিরোধী দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দুপুরে শিলিগুড়ির বাগডোগরা থেকে হেলিকপ্টারে মালদা বিমানবন্দরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান ইংরেজবাজার শহরের পুরাটুলি বাঁধ রোড এলাকায়। সেখানে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে পণ্ডিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান এবং দলীয় কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মূল প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নীতিশ প্রামাণিকসহ অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী ও পদস্থ আধিকারিকেরা। চার জেলার প্রায় ৪৯ জন বিধায়ক ও দুই সাংসদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকটি এক ঐতিহাসিক রূপ নেয়।প্রশাসনিক এই মেগা বৈঠকে চার জেলার একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল চাঁচল পুরসভা গঠন, উত্তরবঙ্গে ‘এইমস’ (AIIMS) হাসপাতাল স্থাপন, মালদা ও মুর্শিদাবাদের বন্যা ও নদী ভাঙন সমস্যা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি। এ ছাড়াও মালদা মেডিকেল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট চালু, মালদা বিমানবন্দরের বিকল্প জমি খোঁজা, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র স্থাপন এবং মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য বন্ধ থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, হামিদূর রহমান, সমর মুখার্জী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাবিনা ইয়াসমিন সহ বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ মতামত বিনিময় করেন।বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই কার্যপদ্ধতি ও ব্যবহারের ভূয়সী প্রশংসা করেন তৃণমূল বিধায়কেরা। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, “বিরোধী দলের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও যেভাবে আমাদের ডেকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বিগত দিনে হয়তো কোথাও খামতি ছিল, যার খেসারত দিতে হয়েছে। তবে আজ কালিয়াচকের যানজট ও ওভারপুল মার্কেট নিয়ে যেভাবে খোলামেলা কথা বলতে পেরেছি, তা কল্পনাতীত।”একই সুর শোনা গেছে রতুয়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি জানান, গঙ্গার ভাঙন রোধে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে বিরোধী বিধায়ক হিসেবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মর্যাদা ও গুরুত্ব পাওয়া তাঁদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, মালতিপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সিও গঙ্গার ভাঙন ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক আশ্বাসে পূর্ণ ভরসা প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে, এদিনের বৈঠক শেষে সব দলের বিধায়কেরাই এক বাক্যে স্বীকার করে নেন যে, রাজনীতির ময়দানে সামঞ্জস্য রেখে সার্বিক উন্নয়নের যে দৃষ্টান্ত এ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী দেখালেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।