উত্তর দিনাজপুর: বিধানসভা নির্বাচনে জনমতের হাওয়া, উন্নয়নের দাবিতে অনড় সাধারণ ভোটার

​তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। রায়গঞ্জ থেকে ইসলামপুর, ডালখোলা থেকে ইটাহার—জেলার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এখন ভোটের প্রচার তুঙ্গে। তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতির ভিড়ে ঠিক কী ভাবছেন সাধারণ মানুষ? তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া বা বর্তমান ক্ষোভই বা কী নিয়ে? উত্তর দিনাজপুরের শহর ও গ্রাম ঘুরে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।

​উন্নয়নই প্রধান ইস্যু:
জেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, তাঁদের কাছে এবারও প্রধান ইস্যু ‘উন্নয়ন’। ইসলামপুর ও ডালখোলার সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিবার ভোটের আগে বাইপাস বা যানজটমুক্ত শহরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই সব আগের মতো হয়ে যায়।”

​পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা:
উত্তর দিনাজপুরের অন্যতম বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জের গ্রামগুলি থেকে প্রতি বছর প্রচুর শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দেন। এবার সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নিয়ে প্রবল ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিক পরিবারের এক সদস্যের কথায়, “আমরা চাই এলাকায় শিল্প গড়ে উঠুক যাতে বাড়ির ছেলেদের আর বাইরে যেতে না হয়।”

​কৃষি ও অনুন্নত যোগাযোগ:
চোপড়া ও ইটাহারের মতো কৃষিপ্রধান এলাকাগুলিতে চাষীদের প্রধান সমস্যা হলো ফসলের সঠিক দাম না পাওয়া। অনেক কৃষকই মনে করেন, হিমঘর ও আধুনিক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার অভাব তাঁদের চরম সংকটে ফেলছে। অন্যদিকে, গ্রামের কাঁচা রাস্তা ও বর্ষায় জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা এখনও মেটেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার।
​

মহিলা ভোটারদের প্রতিক্রিয়া:

উত্তর দিনাজপুরে মহিলা ভোটারদের মধ্যে সরকারি প্রকল্পগুলির জনপ্রিয়তা স্পষ্ট। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সুফল পাওয়ায় খুশি এক বড় অংশ। তবে নিরাপত্তা ও নারী শিক্ষার প্রসার নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষিত যুবতীরা।

​তরুণ প্রজন্মের ভাবনা:
প্রথমবারের ভোটারদের কাছে বড় চাওয়া হলো উচ্চশিক্ষা ও চাকরির নিশ্চয়তা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র জানান, “আমরা এমন সরকার চাই যারা শুধু রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেবে।”

​সব মিলিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলায় এবার লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। একদিকে শাসক শিবিরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড, অন্যদিকে বিরোধীদের কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির অভিযোগ—দুয়ের মাঝে সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন নাকি স্থিতাবস্থা বজায় রাখবেন, তা সময় বলবে। তবে ভোটারদের সচেতনতা এবং উন্নয়নের দাবি যে এবার রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তা স্পষ্ট