“অন্নপূর্ণার টাকায় বদলাচ্ছে জীবনের হিসাব! উত্তর দিনাজপুর জুড়ে খুশির জোয়ার, অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা পেয়ে আবেগে ভাসছেন মহিলারা”
তন্ময় চক্রবর্তী রাজ্যজুড়ে বহুল আলোচিত অন্নপূর্ণা যোজনা-র প্রথম কিস্তির অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতেই উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেল খুশির জোয়ার। কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, করণদিঘি, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকেই ব্যাঙ্ক, গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র এবং অনলাইন পরিষেবার দোকানগুলিতে উপচে পড়ে ভিড়।মোবাইলে মেসেজ আসতেই অনেকেই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। অ্যাকাউন্টে সত্যিই ৩,০০০ টাকা জমা পড়েছে কি না তা বারবার চেক করতে দেখা যায় বহু মহিলাকে।

কেউ ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবই আপডেট করছেন, কেউ আবার এটিএম কিংবা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালেন্স যাচাই করছেন। অনেকেই নতুন করে আবেদনপত্র পূরণ করার কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।রাজ্য নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লক্ষীর ভান্ডারের পরিবর্তে মহিলাদের হাতে মাসিক ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম কিস্তির অর্থ হাতে পেয়ে এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখছেন সাধারণ মানুষ।কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সুচিত্রা বর্মন বলেন,“মোবাইলে টাকা ঢোকার মেসেজ দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। ভেবেছিলাম হয়তো ভুল হয়েছে।
পরে ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখি সত্যিই ৩,০০০ টাকা জমা পড়েছে। সংসারের অনেক কাজে এই টাকা কাজে লাগবে।“রায়গঞ্জের গৃহবধূ মৌসুমি সরকার জানান,“একসঙ্গে এত টাকা আগে কোনও সরকারি প্রকল্পে পাইনি। বাজার খরচ, ছেলের পড়াশোনা এবং ওষুধ কেনার জন্য এই টাকা খুব উপকার করবে।“ইসলামপুরের বাসিন্দা রুবিনা খাতুন বলেন,“স্বামীর আয় অনিয়মিত। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। এই টাকা আমাদের মতো গরিব পরিবারের কাছে অনেক বড় সাহায্য।“করণদিঘির মমতা দেবী বলেন,“আজ ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তোলার পর মনে হচ্ছে সত্যিই সরকার কথা রেখেছে।
এই টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনার খরচ মেটাতে পারব।“চাকুলিয়ার পুষ্পা দাস জানান,“বাড়ির রেশন, বিদ্যুতের বিল এবং অন্যান্য খরচ সামলাতে এই অর্থ বড় ভরসা হয়ে উঠবে।“এদিকে জেলার বিভিন্ন গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই আবেদনপত্র জমা দেওয়া, নথি যাচাই এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছেন।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর কোনও সরকারি আর্থিক প্রকল্পকে ঘিরে এতটা উৎসাহ এবং আগ্রহ দেখা গেল।সমাজের বিভিন্ন স্তরের মহিলাদের একটাই বক্তব্য— সংসারের ক্রমবর্ধমান খরচের বাজারে এই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা তাঁদের অনেকটাই স্বস্তি দেবে।

কেউ ভাবছেন সঞ্চয়ের কথা, কেউ সন্তানের পড়াশোনার জন্য টাকা রেখে দিতে চান, আবার কেউ জরুরি চিকিৎসার খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করছেন।উত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, “অন্নপূর্ণার টাকা কি আপনার অ্যাকাউন্টেও এসেছে?” আর সেই প্রশ্নের উত্তরে হাসিমুখে অনেক মহিলার জবাব, “হ্যাঁ, এসেছে। আর তাতেই যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।”

