December 4, 2022

পথ নিরাপত্তায় আতঙ্কের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ চিন্তায় জেলাবাসী ..১ম পর্ব

1 min read
জয়ন্ত বোস , (বর্তমানের কথা) :  .এমন দিবস চিন্তা করেও পাবে নাকো তুমি , সকল দিবসই দুর্ঘটনায় এই জেলাভূমি . প্রতিদিন উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে পথ দুর্ঘটনার খবরে আতঙ্কিত গোটা জেলার মানুষ আর এই আতঙ্কের টেনশন নিয়েই প্রতিদিন পথ চলা শুরু. পরিবারের অতি প্রিয়জন বিভিন্ন কাজে বাড়ির থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরে ঠিক মতো বাড়ীতে ফিরে আসবে তো এই চিন্তা গ্রাস করে নিচ্ছে উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রতিটি এলাকার মানুষকে . এই আতঙ্ক থেকে রেহাই মিলবে কিভাবে সেটাও এখন কোটি টাকার প্রশ্ন. জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেল পথ দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পোস্টমর্টেম হয় কিন্তু জেলাবাসীরা এখন  পথ দুর্ঘটনার কারণের পোস্টমর্টেম নিয়ে ব্যস্ত . গতকালই শুক্রবার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা ঘটে গেল জেলার সদর শহর রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে একই জায়গায় . পঃবঙ্গ সরকারের পথ দুর্ঘটনায় পথ নিরপত্তামূলক প্রকল্প “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ ” এটি কোন মেডিসিন কিংবা মাদুলি নয় যে খেলেই  কিংবা হাতে , কোমরে বেঁধে রাখলেই  পথ দুর্ঘটনা নিমেষের মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যাবে তাতো নয় . এটি সচেতনতার ভিসুয়াল প্লাটফর্ম . যে কোন দুর্ঘটনাই কাম্য নয় তারমধ্যে পথ দূর্ঘটনা অন্যতম যেটা আরো মর্মান্তিক , আরো বিভত্স , আরো বেশী বেদনাদায়ক. জেলার বিভিন্ন প্রান্তের  শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পথ দূর্ঘটনার কারণের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করছিল তাতে কতকগুলো বিষয় সবিস্তারে তুলে ধরে একদিকে পথ চলতি মানুষের  এবং অপরদিকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তাব্যেক্তীদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হিসাবে এই সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবেদন. এই সংবাদ প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে  আজ  জেলা সদর রায়গঞ্জ শহর ও শহরকেন্দ্রিক অঞ্চলের পথ দুর্ঘটনার কারণের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট . অনেক পুরোনো পৌর শহর রায়গঞ্জ. নিত্যদিন বেড়ে উঠছে পথ চলতি  শহরের জনসংখ্যা আর এই পথ চলতি  জনসংখ্যার সাথে  নিত্যদিন শহরের বুকে বিভিন্ন কাজের জন্য আসা শহরের বাহিরের পথ চলতি জনসংখ্যা . কেউ হেঁটে , কেউ সাইকেলে , কেউ টুহুইলারে , প্রাইভেট গাড়িতে , ভাড়া করা গাড়িতে , বাসে , অটো করে , টোটো করে , ভুটভুটি করে সকলে শহরে ঢুকছেন , সকলে শহর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন আবার অনেকেই শহরের ভিতরেই এক স্থান  থেকে অন্য স্থানে পাক খাচ্ছেন বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে . এরই পাশাপাশি রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া দিয়ে চলে গেছে ৩৪নং জাতীয় সড়ক এবং ১০এ রাজ্য সড়ক . শিলিগুড়ি মোড় একটি অন্যতম সর্বদাই বহুল ব্যস্ততম অঞ্চল .এখানে  ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা – প্রথমেই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে প্রশ্ন উঠে এসছে ট্রাফিক সিগন্যাল (আলোর  ক্ষেত্রে )  পরিচালনার  দ্বায়িত্বে কে থাকেন ? তিনি কি ট্রেন্ড  ট্রাফিক পুলিশ ? তিনি কি ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কিত ট্রেনিংপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ? কতজন ট্রাফিক পুলিশ দ্বায়িত্বে থাকেন ? সিভিক ভলান্টিয়ার যারা ট্রাফিক পরিচালনায় সহযোগীতার দ্বায়িত্বে থাকেন তারা কি ট্রাফিক কন্ট্রোল সম্পর্কে ট্রেনিংপ্রাপ্ত ? চৌমাথায় ঠিক মাঝখানে ট্রাফিক স্ট্যান্ডের উপরে সরকারি প্রকল্প সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের পোস্টার আ্যড বাদ দিয়ে ঢাকা জুয়েলারির আ্যড পোস্টার কার স্বার্থে ? কেন সেখানে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ সরকারি সচেতনতামূলক পোস্টার থাকবে না ? শিলিগুড়ি মোড়ের এক বাসিন্দা জানালেন ট্রাফিক সিগন্যাল আলোকবাতির সব দিকের বাঁদিকে যাওয়ার সবুজ বাতি সবসময় জ্বলছে অ
র্থাত্ কেউ গাড়ি নিয়ে কুলিক ব্রীজ পার করে শিলিগুড়ি মোড় হয়ে সোজা বালুরঘাট অভিমুখী ১০এ রাজ্য সড়কে ঢুকবে যেহেতু বাঁদিকে সবুজ সিগন্যাল দেওয়া আছে সে প্রবেশ করতেই পারে কিন্তু ঐ সময় মালদা অভিমুখে লাল বাতি জ্বলছে বলে ঐ অভিমুখে সারি দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায় আর মালদা থেকে শিলিগুড়ি অভিমুখে সবুজ সিগন্যাল খোলা থাকায় শিলিগুড়ি অভিমুখে গাড়িগুলি চলতে থাকায় তখন কিভাবে কুলিক ব্রীজ পার হয়ে আসা গাড়ি বাঁদিকে টার্ন নিয়ে বালুরঘাট অভিমুখী  রাস্তায় প্রবেশ করবে সেই স্পেস তো থাকে না  , দ্বিতীয়ত কুলিক ব্রীজ পার করে আসা গাড়ি বাঁদিকে টার্ন এর সিগন্যালের সবুজ বাতি অন থাকায় বালুরঘাট অভিমুখী রাস্তায় গাড়ি প্রবেশের সময় রায়গঞ্জ শহর থেকে বালুরঘাট অভিমুখী রাস্তার সবুজ বাতি অন করে দিয়ে ট্রাফিক কর্তব্যরত পুলিশ গাড়িগুলোকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন , তাতে করে দূর্ঘটনা যে ওত পেতে থাকে সেই বিষয়ে ট্রাফিকের কর্তব্যরত পুলিশ মহোদয়গণ ওয়াকিবহাল থাকেন কিনা   এবং এই ভাবে সিগন্যাল পরিচালনা করার ট্রাফিক সিগন্যাল রুল কি বলে এই বিষয়ে প্রশ্ন . আরো একজন শিলিগুড়ি মোড় থেকে বাসে উঠে নিত্য অফিস যাত্রি তিনি প্রথমে মুখে কুলুপ এটে ছিলেন , তারপর রেগে গিয়ে বললেন অফিস সময়ে একদিকে অফিস যাত্রিদের ও বিদ্যাচক্র স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের, সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের  আনাগোনায় উক্ত এলাকায় যে যানজটের সৃষ্টি হয় তখন এবং অন্যান্ন সময়েও দেখা যায় ট্রাফিকে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই সেই সময়ে পথ চলতি মানুষদের ও ছাত্রছাত্রীদের রাস্তা পারাপারের দিকে বিশেষ নজর না দিয়ে লোডিং লড়িগুলোর পাশে দৌড়ে গিয়ে  ড্রাইভার সাইডের জানালার  দিকে হাত বাড়িয়ে কি যে নেয় দেখা যায় না তবে এই ঘটনায় ড্রাইভারের অন্যমনস্কতায় দুর্ঘটনা ওত পেতেই  থাকে . তিনি  গত শুক্রবারের স্কুলছাত্রের পথ দুর্ঘটনায় অকালে মায়ের কোল ফাঁকা করে বিদায়ের এটি কি একটি কারণ এই প্রশ্নটিও তুলেছেন . পথ দূর্ঘটনা এড়াতে পথ নিরাপত্তার জন্য সকলকে  সচেতন করতে  পথ নাটক , সম্মিলনী যেমন প্রয়োজন তার চেয়েও বেশী প্রয়োজন প্রতিটি গুরুত্তপূর্ণ মোড়গুলিতে ট্রাফিক ট্রেনিংপ্রাপ্ত পুলিশের সাথে ট্রাফিক ট্রেনিংপ্রাপ্ত সিভিক পুলিশদের দ্বায়িত্ব দেওয়া .অফিস সময়ে মোহনবাটিতে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের প্রবেশদ্বারের সামনে বিভত্স দুর্ঘটনা ওত পেতে থাকে সর্বদাই .পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে আদালতের এক বিশিষ্ঠ আইনজীবী বললেন সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন কেস সংক্রান্ত  চিন্তা নিয়ে  প্রবেশ সময়ে উকিলবাবুরা যেকোন দিন যেকোন পরিস্থিতিতে একাধিক বড় দুর্ঘটনার কবলে পরতে পারেন. ঐ পথেই আদালতের বিচারক মহোদয়গণ যাতায়াত করে থাকেন . একদিকে সংকীর্ণ প্রবেশদ্বার তারপরে ঐ সময়ে ঠিক  উক্ত মোড়ে কোনদিন সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশ থাকে কোনদিন থাকেই না এমনকি থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতেই জানে না . এই চিত্র রায়গঞ্জ শহরের সর্বত্রই গুরুত্তপূর্ণ মোড়গুলিতে. বাসস্ট্যান্ডের সামনে ট্রাফিকের নিয়ন্ত্রনের দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ কিংবা সিভিকরা নিজেরাই কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না তার অন্যতম কারণ  ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাই নাই. বাসস্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে বাস , অটো , ট্রেকারগুলি ঠিক দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আর যাত্রি তোলার জন্য এমনভাবেই রাস্তা ব্লক করে দাঁড়াচ্ছে সর্বদাই যানযট তৈরী করে দুর্ঘটনার রাস্তা তৈরী করছে আর ট্রাফিকের দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ নির্বাক. একই চিত্র স্কুল টাইমে গার্লস স্কুল মোড়ে, বিদ্রোহী মোড়ে , নার্সিংহোম হাসপাতাল মোড়েও . সিভিকদের রাস্তায় ডিউটির জন্য দ্বায়িত্ব দিয়েই ডিউটি মনিটরিং না করা  থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশদের দেখাশুনার দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারের , কোনো মনিটরিং আছে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করলেন বকুলতলা মোড়ে কাপড়ের
দোকানে কাপড় কিনতে  আসা রায়গঞ্জ নিবাসী এক এক্স মিলিটারী অফিসার . পথ দূর্ঘটনার আরেকটি বিষয় রায়গঞ্জ শহরে পৌরসভা কতৃক পার্কিং সিস্টেম আছে কিনা,  পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কি বলছে .নেই বলেই যত্রতত্র পারলে রাস্তার উপরেই রোমিওদের  টুহুইলারগুলি শোরুমের আকার নেয়. কেউ কিছু বলার সাহস পায় না ,  রাজনৈতিক দাদাদের এই রোমিও ভাইরা তো রায়গঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থা  নিয়ন্ত্রণ করছে . হেলমেটহীন কানে মোবাইল এয়ারফোন লাগিয়ে উচচ গতিতে সাপের মতো এঁকেবেঁকে  শহরের অলিগলি ঘুরে যখন মেইন রাস্তায় উঠছে তখন পথ চলতি মানুষের নাভিশ্বাস হওয়ার অবস্থা , কখন যে বড় একটা বিপদ ঘটে যায় এই আতঙ্কে . ওদিকে আবার এফসিআই মোড়ে মাছের বাজারে এক মাছ বিক্রেতার কথায়  কতিপয় মানুষ লরিগুলিকে দার করিয়ে পার্কিংয়ের নামে পয়সা নিতে গিয়ে রাস্তায় যানযটের সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত.আর যখন একসঙ্গে গাড়িগুলো কে কাকে ওভারটেক করে ঊর্ধ্বশ্বাসে গতি নিয়ে এগোতে যাচ্ছে তখন দুর্ঘটনার আতঙ্কে পথ চলতি মানুষ দিশেহারা . পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে রায়গঞ্জ শহরে ফুটপাত একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা দখল করে রমরমিয়ে ব্যবসা বৃদ্ধিতে মগ্ন. হেঁটে চলাচলকারী পথ চলতি মানুষদের রাস্তার উপর দিয়েই অগত্যা চলতে হচ্ছে . বসন্তস্টোরস মোড় থেকে বিদ্রোহী মোড় এখোনো অবধি পৌর প্রশাসনের নজরে থাকা সত্তেও ঐ এলাকায় পথ চলতি মানুষদের দূর্ঘটনার আতঙ্ক পিছন দিক্ থেকে হর্ণ মারে . এরপরেও আছে অনিয়ন্ত্রিত টোটো চালকদের দৌরাত্ব. নিঃশব্দে ষাঁড় যেমন পথ চলতি মানুষকে পিছনদিক্ থেকে এসে গুঁতো মারে ঠিক তেমনি সাউন্ডলেস টোটোদের গুঁতোর আতঙ্ক . রায়গঞ্জের বিশিষ্ট কয়েকজন নাগরিক পথ দুর্ঘটনা এড়াতে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বললেন শিলিগুড়ি মোড় দিয়ে মোহনবাটি হয়ে এবং কসবা মোড় দিয়ে দেবীনগর হয়ে পাবলিক কিংবা সরকারি বাস স্ট্যান্ডে সকল ধরনের গাড়ি প্রবেশ বন্ধ করে শুধু মাত্র বাস স্ট্যান্ড থেকে শহরের মধ্য দিয়ে বের হওয়ার পথ করে দিলে অনেকটাই যানজট কমবে এবং পাবলিক গাড়ি গুলোকে যেগুলি বালুরঘাট , শিলিগুড়ি, মালদা থেকে আসছে সেগুলিকে বাইপাসের রেলগেটের পাশ দিয়ে পাবলিক বাস স্ট্যান্ডে প্রবেশের পথ এবং সকল দিক্ থেকে আসা সরকারি বাস গুলিকে কলেজপাড়া জেলখানা মোড় দিয়ে সরকারি বাস স্ট্যান্ডে প্রবেশের পথ করে দিলে শহরে যানজট হাল্কার সাথে পথ নিরাপত্তায় পথ দুর্ঘটনা এড়ানো অনেকাংশে সম্ভব হবে এবং দূর্ঘটনার আতঙ্কের গ্রাস থেকে পথ চলতি মানুষ মুক্তি পেতে পারে . পথ দূর্ঘটনা  এড়াতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসন , রায়গঞ্জ পৌর প্রশাসন , জেলা প্রশাসন , সরকারি বেসরকারী পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকগণ , বিদ্যালয় কলেজগুলোর পদাধিকারিক ব্যক্তিগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব মহোদয়গণ , যানবাহন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বদের একত্রিত আলোচনায় সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ প্রকল্পে বাস্তবায়িত হয়ে উঠুক পথ দুর্ঘটনায় পথ নিরাপত্তার বিষয় সমূহ এবং পথ চলতি মানুষের আতঙ্কের অবসান ঘটুক ১ম পর্বে বর্তমানের কথায় সংবাদ প্রতিবেদনে.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *