December 4, 2022

মালদা শহরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতার পরিবার

1 min read
বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদা : উন্নত পরিসেবার আশায় অসুস্থ বাবাকে বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেছিল ছেলে।কিন্তু প্রায় ১৫ ঘন্টা রোগীর চিকিৎসায় এলেন না কোনো ডাক্তারবাবু।নার্সিংহোমের এমন কার্যে অবশেষে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হলো ওই রোগীর।

মালদা শহরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতার পরিবার।ঘটনায় নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার পরিবার। যদিও এই প্রসঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কেউই প্রতিক্রিয়া দিতে অনিচ্ছুক।জানাগেছে , মৃত ব্যক্তির নাম মহন্ত দারিয়া(৬৫) মালদা জেলার হবিবপুর থানার আগ্রা হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামে বাসিন্দা।পেশায় কৃষক।তাঁর ছেলে রণজিৎ দারিয়ার অভিযোগ, শনিবার দুপুরে চাষ করতে মাঠে গিয়েছিলেন বাবা। তারপই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে মাঠ থেকে বাবাকে নিয়ে যান স্থানীয় বুলবুলচণ্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে তাঁর বাবার চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর বাবাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করেন।কিন্তু সেখানে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয় তাই উন্নত পরিসেবার আশায় বাবাকে মালদা শহরের মহানন্দা নার্সিংহোমে রাত রাতে ভর্তি করেন। প্রথমেই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। সঙ্গে ওষুধের লম্বা তালিকা ধরিয়ে দেয়। নার্সিং হোম থেকে তাঁদের জানানো হয়, তাঁর বাবার রক্তচাপ সামান্য কম। চিন্তার কিছু নেই। তাঁর কিছু হবে না।এদিকে রাত বাড়লেও কোনও চিকিৎসক বাবাকে দেখতে যাচ্ছেন না।তাই রাতে আমি নার্সদের জিজ্ঞাসা করি, তখন জানানো হয়, ভর্তি করার পর রোগীর সমস্ত দায়িত্ব নার্সিংহোমের। তাঁরা যেন এনিয়ে কোনও চিন্তা না করেন। রবিবার সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে এক চিকিৎসক প্রথমবারের জন্য তাঁর বাবাকে পরীক্ষা করেন। সেই চিকিৎসক জানান, বাবার অবস্থা খুব খারাপ। তাঁকে ICU-তে রাখতে হবে। ওই নার্সিংহোমে ICU নেই। তাই তাঁর বাবাকে অন্য একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবাকে স্থানান্তরিত করার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করলেও সেখানে কোনও অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখেনি। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই বেলা ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর বাবার”।

রণজিতবাবুর এমন ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন। রবিবার রাতে গোটা ঘটনার বিবৃতি দিয়ে মহানন্দা নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইংরেজবাজার থানায়। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।তবে ঘটনা নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চাননি।এদিকে বাবার এমন মৃত্যুতে শোকাহত ছেলে রঞ্জিত দারিয়া সহ পরিবারবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *