২০২৬ ভোটের অংক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে যাচ্ছে ভোট বিশ্লেষকদের
অংকটা কিন্তু বেশ জটিল। তৃণমূলের সামনে যেমন রয়েছে মুসলিম ভোটের অনেক হিসাব তেমনই বিজেপির সামনে রয়েছে বিরোধীদের ভোট কাটাকুটির হিসাব। ২০২১ সালের ভোটের হিসেবের দিকে যদি তাকানো যায়, তাহলে কিন্তু বিজেপির জন্য ২০২৬-এর ভোট যুদ্ধ বেশ কঠিন। কারণ, সেই ভোটে ২১৩টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসন। মমতার দলের ভোট শতাংশ ছিল ৪৭.৯৪ শতাংশ তো ওদিকে গেরুয়া বাহিনীর ঝুলিতে ছিল ৩৮.১৩ শতাংশ ভোট। আর জোটের দিকে গিয়েছিল ৮.৬ শতাংশ ভোট। আর এই পরিসংখ্যান দেখে এটা পরিষ্কার যে বঙ্গ বিজেপির ২০২৬ সালের ভোটের বৈতরণী পার করা খুব একটা সহজ হবে না। কারণ, প্রায় ১০ শতাংশ ভোটের তফাত রয়েছে টিএমসি এবং বিজেপির মধ্যে। প্রশ্ন তফাৎ মিটবে কি করে? বিজেপির ভরসা ‘SIR’। কিন্তু বিষয়টা তত সহজ নয়।

অন্তত ২০২১ সালের বিধানসভার পরিসংখ্যান দেখলেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে ১০ শতাংশের গ্যাপ পূরণ করা বিজেপির পক্ষে আপাতভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২১ সালের হিসেবকে মাথায় রেখে চললে প্রথমত জোটের ভোট কাটতে হবে বিজেপিকে। সেই ভোটে ৮.৬ শতাংশ পেয়েছে বাম, কংগ্রেস জোট। আর সেই ভোটের যদি ৪ থেকে ৫ শতাংশ টেনে আনতে পারে বিজেপি নিজের দিকে, তাহলে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে তারা। কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদিয়া, বীরভূম থেকেও ভাল সংখ্যায় ভোট পেতে হবে গেরুয়া বাহিনীকে। তাহলেই নবান্নের লড়াইতে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে বিজেপি। বিজেপি নিজেও জানে যে তারা মুসলিম ভোট পাবে না। আর এটাই বাংলায় তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। এই ভোটটা নিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। যার ফলে তারা অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে ভোট যুদ্ধে। তবে বিজেপির এই সমস্যার সমাধান করতে মিম এবং হুমায়ুন কবীরেরা। তারা তৃণমূলের মুসলিম ভোট কেটে নিলেই খেলা ঘুরে যাবে। বিজেপি এগিয়ে যেতে পারে। সব জটিল অংকের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কয়েক মাস।





