দুই মাসের অপেক্ষার অবসান! অবশেষে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেলেন জন্মান্ধ শংকর মহন্তের স্ত্রী স্বপ্না, মুখে হাসি—মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর:

মোবাইলে মেসেজ না আসায় মন খারাপ, ব্যাংকে টাকা ঢুকতেই মুখে হাসি! অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেলেন জন্মান্ধ শংকর মহন্তের স্ত্রী স্বপ্না

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর:আর পাঁচজন সাধারণ মহিলার মতোই প্রতিমাসে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বপ্না মহন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মোবাইলে টাকা ঢোকার কোনও মেসেজ না আসায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর।

তার উপর এর আগেও পরপর দুই মাস অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে জানতে পেরে ফের মুখে হাসি ফুটল স্বপ্না মহন্তের।স্বপ্না মহন্ত হলেন জন্মান্ধ শংকর মহন্তের স্ত্রী। সংসারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই তাঁদের দিন কাটে। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া আর্থিক সহায়তা তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিমাসের মতো এবারও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্বপ্না।স্বপ্না মহন্ত জানান, প্রতিমাসের মতো এবারও তিনি অপেক্ষা করছিলেন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও তাঁর মোবাইলে টাকা জমা পড়ার কোনও মেসেজ আসেনি। ফলে তাঁর মন খারাপ হয়ে যায়।এরপর তিনি নিজের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেন। সেখানে টাকা জমা পড়েনি দেখে আরও চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কিন্তু পরে অন্য একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়েই আসে স্বস্তির খবর। দেখা যায়, সেই অ্যাকাউন্টেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা জমা পড়েছে।এই খবর জানার পরই যেন বদলে যায় স্বপ্না মহন্তের মন-মেজাজ। কিছুক্ষণ আগেও যে মুখে ছিল হতাশার ছাপ, টাকা জমা পড়ার খবর জানতে পেরে সেই মুখেই ফুটে ওঠে খুশির হাসি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।স্বপ্না বলেন, প্রথমবার অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়ার পর পরবর্তী দুই মাস তিনি আর টাকা পাননি। ফলে প্রতিমাসে টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও একটা সময় তাঁর মনে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এবার টাকা পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি।স্বপ্না মহন্ত আরও জানান, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের মতো পরিবারের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে এই টাকা কাজে আসে। তাই নিয়মিতভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।টাকা পাওয়ার পর স্বপ্না মহন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় তাঁদের মতো সাধারণ পরিবারের অনেকটাই উপকার হয়।কালিয়াগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপ্না মহন্তের এই ঘটনা যেন সরকারি সহায়তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আবেগেরই একটি ছবি। মাসের শুরু থেকে টাকা আসার অপেক্ষা, মোবাইলে মেসেজ না আসায় উদ্বেগ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে হতাশা এবং শেষ পর্যন্ত অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার খবর—সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হতাশা থেকে আনন্দে বদলে গেল স্বপ্না মহন্তের মন।