রায়গঞ্জ রেলস্টেশনে নতুন পার্সেল অফিস, ১.০৫ কোটি টাকার ই-টেন্ডার প্রকাশ রেলের

রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পার্সেল পরিষেবাকে আরও সহজ, আধুনিক ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে

রায়গঞ্জ রেলস্টেশনে নতুন পার্সেল অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রেল দপ্তর। এই নতুন পার্সেল অফিস নির্মাণে আনুমানিক ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

রেলের টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি ‘Development of Raiganj Parcel Office of KIR Division’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।নতুন পার্সেল অফিস তৈরি হলে রায়গঞ্জ ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহণ-নির্ভর ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্য, ব্যবসায়িক সামগ্রী এবং ব্যক্তিগত পার্সেল রেলের মাধ্যমে পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিষেবা আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল এদিন সামাজিক মাধ্যমে এই সুখবর জানিয়ে রেল দপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তব্য, রায়গঞ্জ রেলস্টেশনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নতুন পার্সেল অফিস নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

 

এর ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও আরও উন্নত পার্সেল পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রায়গঞ্জ রেলস্টেশনে নতুন পার্সেল অফিস নির্মাণের জন্য রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১.০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নতুন পার্সেল অফিস ভবন নির্মিত হবে।

 

রায়গঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি আরও বলেন, রায়গঞ্জকে রেল যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর দিক থেকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিকবার বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন।

 

রায়গঞ্জ রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে যাত্রী পরিষেবা, স্টেশন পরিকাঠামো এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লোকসভায় রায়গঞ্জ রেলস্টেশন নিয়ে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, রায়গঞ্জ স্টেশনে হাই-লেভেল প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্ম শেড, ওয়েটিং হল, পানীয় জল, শৌচাগার, বসার জায়গা এবং ফুট ওভারব্রিজের মতো বিভিন্ন যাত্রী পরিষেবা রয়েছে।

 

রায়গঞ্জ স্টেশনটি এনএসজি-৪ শ্রেণিভুক্ত বলেও জানানো হয়েছিল।রেল সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, রায়গঞ্জ পার্সেল অফিস উন্নয়নের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক কাজের জন্যও পৃথক টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। অর্থাৎ নতুন পার্সেল অফিসকে আধুনিক পরিষেবা উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল এই প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর কথায়, রায়গঞ্জের মানুষের উন্নত পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই রেল যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।নতুন পার্সেল অফিস নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হলে রায়গঞ্জ রেলস্টেশনে পার্সেল বুকিং, সংরক্ষণ ও পরিবহণ সংক্রান্ত পরিষেবায় আরও শৃঙ্খলা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও রেলপথে পণ্য পরিবহণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। ফলে রায়গঞ্জের বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই নতুন পার্সেল অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।