সকাল হলেই অন্ধকার! বিদ্যুৎ নেই, সঙ্গে গরমের খাঁড়া—কালিয়াগঞ্জে প্রাতঃকালীন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল জনজীবন

 

পিয়া গুপ্তা চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ:সকাল সকাল হলেই শুরু হচ্ছে দুর্ভোগ। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৭টা বাজতে না বাজতেই আচমকা উধাও হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। তারপর অপেক্ষার পালা—কখন ফিরবে আলো? কখনও সকাল ১০টা, কখনও আবার গড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে ১০টা। উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতির অভিযোগ উঠছে। একদিকে গরমের দাপট, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীনতা—দুইয়ে মিলে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা শহরবাসীর।কাজের দিন হোক কিংবা ছুটির সকাল, দিনের শুরুতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে সকালবেলা যখন ঘরের যাবতীয় কাজ, রান্নাবান্না, স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের পাঠানো এবং অফিস-বাজারের প্রস্তুতি চলে, ঠিক সেই সময়েই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।ভোরের মিষ্টি হাওয়া কাটতে না কাটতেই শুরু হচ্ছে গরমের দাপট। রাতেও গুমোট গরমে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার পর সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিদ্যুৎহীনতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শহরবাসীকে। ফ্যান, কুলার কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরের ভিতরে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।শিশু থেকে প্রবীণ—সমস্যায় পড়ছেন সকলেই। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং ছোট শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলির উদ্বেগ আরও বাড়ছে।এক শহরবাসীর কথায়, “সকালবেলাই সংসারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। রান্নাবান্না, ঘরের কাজ, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো—সব কিছুই এই সময় করতে হয়। সেই সময় যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে গোটা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাই ওলটপালট হয়ে যায়।”প্রাতঃকালীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে পানীয় জল সরবরাহের উপরেও। বহু বাড়িতে মোটর চালিয়ে জল তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক পরিবারকেই জলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।সকালের ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় গৃহস্থালির পাশাপাশি সমস্যায় পড়ছেন দোকানদার এবং ছোট ব্যবসায়ীরাও।কালিয়াগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে, ছাপাখানা, অনলাইন পরিষেবা কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ব্যবসাগুলির কাজেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। দিনের শুরুতেই কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ইনভার্টার কিংবা জেনারেটরের সাহায্য নিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে সেই বিকল্প ব্যবস্থাও টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, “সকালে দোকান খোলার পর থেকেই কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটার, প্রিন্টার, মেশিন—কিছুই চালানো যায় না। জেনারেটর চালালে আবার ডিজেলের অতিরিক্ত খরচ। ফলে ব্যবসার উপর সরাসরি আর্থিক চাপ পড়ছে।”শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, এই প্রাতঃকালীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে আগে থেকে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা বা সময়সূচি জানা যাচ্ছে না। ফলে কখন বিদ্যুৎ যাবে এবং কখন ফিরবে—তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।গরমের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। সেই পরিস্থিতিতে যদি নিয়মিতভাবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা শহরবাসীর।কালিয়াগঞ্জবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ দফতর দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখুক। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন প্রতিদিন সকালে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে—তা চিহ্নিত করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হোক।অঘোষিত ও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বন্ধ করে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ কোনও বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পরিষেবা।শহরবাসীর একাংশের হুঁশিয়ারি, দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।সব মিলিয়ে সকাল ৭টা বাজলেই যদি অন্ধকার নামে, আর সেই অন্ধকার কাটতে কাটতে বেলা গড়িয়ে যায়—তাহলে গরমের মরশুমে কালিয়াগঞ্জবাসীর সকাল যে দুর্ভোগ দিয়েই শুরু হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।