অনাস্থার ঝড় সামলে আস্থা ভোটে বাজিমাত! সভাপতি পদে বহাল মুস্তারী বেগম, সহকারী সভাপতির চেয়ারও অটুট সোমার
ইসলামপুর: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অনাস্থা ঘিরে জল্পনা এবং চাপানউতোরের অবশেষে ইতি। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে গোয়ালপোখর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ ধরে রাখলেন মুস্তারী বেগম। একই সঙ্গে নিজের পদে বহাল রইলেন পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সোমা বেগম।

সোমবার অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটকে ঘিরে সকাল থেকেই গোটা এলাকায় ছিল ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য।জানা গিয়েছে, গোয়ালপোখর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মুস্তারী বেগম এবং সহকারী সভাপতি সোমা বেগমের বিরুদ্ধে দলেরই একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব আনে। অনাস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে পঞ্চায়েত সমিতির গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ, তা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা।এরই মধ্যে সোমবার নিয়ম মেনে অনুষ্ঠিত হয় আস্থা ভোট। গোয়ালপোখর-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট ৪১ জন সদস্য থাকলেও এদিন ভোটাভুটিতে উপস্থিত ছিলেন ২৮ জন সদস্য। উপস্থিত সদস্যদের সমর্থন পান সভাপতি মুস্তারী বেগম এবং সহকারী সভাপতি সোমা বেগম। ফলে আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে দু’জনেই নিজেদের পদে বহাল থাকার রাস্তা পরিষ্কার করে নেন।আস্থা ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর তৃণমূল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া। দলের নেতৃত্বের অভিযোগ, দলেরই একাংশকে ব্যবহার করে বিজেপির এক নেতার মদতে সভাপতি ও সহকারী সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক কৌশল সফল হয়নি বলেই দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।তৃণমূলের বক্তব্য, আস্থা ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে পঞ্চায়েত সমিতির নেতৃত্বের উপর এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা রয়েছে। ফলে অনাস্থা এনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।আস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য প্রশাসনের তরফেও ছিল বিশেষ নজরদারি। পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। ভোটপর্ব চলাকালীন পঞ্চায়েত সমিতির আশপাশে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনাও ছিল চোখে পড়ার মতো।আস্থা ভোটের আগে থেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটপর্ব সম্পন্ন হয় বলে জানা গিয়েছে।আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পর সভাপতি মুস্তারী বেগম ও সহকারী সভাপতি সোমা বেগমের সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর আপাতত পঞ্চায়েত সমিতির নেতৃত্বের সংকট কেটে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।তবে এই আস্থা ভোটের পর গোয়ালপোখর-১-এর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। কারণ অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে যে মতবিরোধের ছবি সামনে এসেছিল, তা ভবিষ্যতে কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

