প্রকৃতি বাঁচাতে সবুজের শপথ! ইটাহারে ১৭০ তালবীজ রোপণ, কুলিক নদীর পাড়ে আরও ২০০০ তালগাছের মহাপরিকল্পনা

“প্রকৃতি বাঁচলে, বাঁচবে দেশ”—এই বার্তাকে সামনে রেখে পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে ইটাহারে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তীব্র গরম, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং ক্রমশ কমতে থাকা সবুজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে বনগ্রাম পোস্ট হাটগাছি এলাকায় রোপণ করা হল ১৭০টি তালবীজ।

পরিবেশপ্রেমী অজয় কুমার দাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।পরিবেশ রক্ষাকে নিজের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন রায়গঞ্জের বাহিন এলাকার কুমারজোলের বাসিন্দা অজয় কুমার দাস। তাঁর দাবি, ২০২০ সাল থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সরকারি জায়গা, স্কুল, কলেজ এবং থানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। শুধু গাছ লাগানোই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।অজয় কুমার দাস জানান, বর্তমানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। একদিকে বাড়ছে তাপমাত্রা, অন্যদিকে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে কমছে সবুজের পরিমাণ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং জলবায়ুর উপর। তাই বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেই গাছগুলিকে রক্ষা করার জন্যও সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।এদিন বনগ্রাম পোস্ট হাটগাছি এলাকায় ১৭০টি তালবীজ রোপণ করা হয়। তালগাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান অজয়বাবু।তাঁর এই দীর্ঘদিনের সবুজ অভিযানে বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছেন শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিনের কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও পরিবেশপ্রেমী বিপ্লব ঠকদার, শিক্ষক অরুন বাবু এবং গ্রামের একদল খুদে পড়ুয়া ও স্থানীয় যুবক। ছোটদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। কারণ, ছোট বয়স থেকেই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ প্রকৃতি রক্ষার কাজে এগিয়ে আসবেন বলেই তাঁদের বিশ্বাস।তবে ১৭০টি তালবীজ রোপণেই থেমে থাকতে চান না অজয় কুমার দাস। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে কুলিক নদীর দুই পাড়ে প্রায় ২০০০টি তালগাছের চারা রোপণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কুলিক নদীর তীরবর্তী এলাকায় সবুজের পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা তাঁর।অজয় কুমার দাসের কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধু কোনও একজন ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। সমাজের প্রত্যেক মানুষেরই এই দায়িত্ব রয়েছে। একটি গাছ লাগানো মানে শুধু একটি গাছ তৈরি করা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ছায়া, অক্সিজেন ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।তিনি বলেন, “আমরা যদি এখন থেকেই প্রকৃতিকে রক্ষা না করি, তাহলে ভবিষ্যতে তার ভয়াবহ ফল আমাদেরই ভোগ করতে হবে। তাই প্রত্যেক মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেই গাছটিকে বড় করে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে।”ইটাহারের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তাই নিছক একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়—বরং সবুজ ও সুস্থ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এক পরিবেশপ্রেমীর দীর্ঘ লড়াইয়েরই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কুলিক নদীর পাড়ে আগামী দিনের ২০০০ তালগাছের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুরের সবুজ মানচিত্রে নিঃসন্দেহে যোগ হতে পারে এক নতুন অধ্যায়।