নেশার বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ পুলিশের বড় পদক্ষেপ! এন্টিহিস্টামিন ওষুধের অপব্যবহার রুখতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২২ আগস্ট:নেশার বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। বিশেষ করে যুবসমাজের একাংশের মধ্যে চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশনের অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। এই প্রবণতা রুখতে কালিয়াগঞ্জ থানার উদ্যোগে ওষুধ বিক্রেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি অভিজিৎ দত্তের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন ওষুধ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এমন কোনও ওষুধ বা ইনজেকশন বিক্রি করা যাবে না, যেগুলি নেশার কাজে অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে পশু ও মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ও ইনজেকশনও নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ করে কম দামে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ও ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর অপব্যবহার বন্ধ করতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানানো হয়।পুলিশের দাবি, ব্রাউন সুগারের মতো মাদকের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দামে কিছু ওষুধ পাওয়া যাওয়ায় নেশাগ্রস্তদের একাংশ সেগুলির দিকে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ করা গেলে নেশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশাসন অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছে পুলিশ।বৈঠকে আইসি অভিজিৎ দত্ত ওষুধ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যতের স্বার্থে বিপথগামী ছেলে-মেয়েদের মাদকের নেশা থেকে দূরে রাখতে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া সন্দেহজনক ওষুধ বা ইনজেকশন বিক্রি না করার পাশাপাশি কোনও ধরনের অপব্যবহারের ঘটনা নজরে এলে পুলিশকে জানানোরও আবেদন করা হয়।পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের ওষুধ ব্যবসায়ীরা। নেশার বিরুদ্ধে প্রশাসনের লড়াইয়ে তাঁরা সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ওষুধ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য, নেশার উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। তাই ওষুধের অপব্যবহার রুখতে ব্যবসায়ীদেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।কালিয়াগঞ্জ শহরের পাশাপাশি ব্লকের আটটি অঞ্চলেও নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতা ও নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা মিললে নেশার বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশের এই উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার ওষুধ বিক্রেতা ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের মতে, শুধু পুলিশের অভিযান নয়—পরিবার, ব্যবসায়ী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে এলেই যুবসমাজকে নেশার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

