কালিয়াগঞ্জের হোটেলগুলিতে নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে তো? অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় প্রশাসনের নজরদারির দাবি সাধারণ মানুষের
তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেলের পরিকাঠামো ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে একাধিক হোটেল ও আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, এই সমস্ত হোটেলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
বিশেষ করে হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং অতিথিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো যথাযথ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।সাধারণ মানুষের বক্তব্য, একটি হোটেলে একসঙ্গে বহু মানুষ অবস্থান করেন। ফলে সেখানে কোনও কারণে আগুন বা অন্য কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিরাপদে মানুষকে বের করে আনার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু শহরের কয়েকটি হোটেল সম্পর্কে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রশাসনিক পরিদর্শনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল ও আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কলকাতা ও তারাপীঠের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল সংক্রান্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কালিয়াগঞ্জের হোটেলগুলির ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জোরালো হচ্ছে।কালিয়াগঞ্জ শহরের কিছু হোটেলের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষের একাংশের দাবি, অতীতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের হোটেল ব্যবসা রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মালিকানার বিষয়টি সরকারি নথি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তাই সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে প্রতিটি হোটেলের বৈধ অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা হোক।হোটেলগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, রান্নাঘরের নিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রশাসনিক তৎপরতা দেখানোর চেয়ে তার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে হোটেলের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।তাই কালিয়াগঞ্জ শহরের সমস্ত হোটেল ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নিরাপত্তা অডিট এবং প্রশাসনিক পরিদর্শন করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষা না করে কালিয়াগঞ্জের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি এখনই খতিয়ে দেখবে প্রশাসন?স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং শহরের প্রতিটি হোটেলে সরকারি নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করবে।
