চেম্বারে মোবাইলে ব্যস্ত ডাক্তার! ভুল ভাঙল সাধারণের—মোবাইলেই রাজ্যের দূরদূরান্তের রোগী দেখছেন চিকিৎসক, কালিয়াগঞ্জের আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে অভিনব টেলিমেডিসিন পরিষেবা
তন্ময় চক্রবর্তী : দূর থেকে দেখলে মনে হতেই পারে, চেম্বারে বসে সারাক্ষণ মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ডাক্তারবাবু। রোগী দেখার বদলে বুঝি মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটছেন! এমন দৃশ্য দেখে অনেকের মনেই তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন, রোগীদের প্রতি কি আদৌ নজর রয়েছে চিকিৎসকের?কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। মোবাইলে ব্যস্ত থাকা সেই চিকিৎসকই আসলে একই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছেন।

মোবাইলের মাধ্যমে একের পর এক রোগীর সমস্যা শুনছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ওষুধের প্রেসক্রিপশনও করছেন। আর এই গোটা পরিষেবার নাম টেলিমেডিসিন পরিষেবা।এমনই অভিনব দৃশ্যের দেখা মিলল কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে পরিচালিত ভারত সরকারের আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে। এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ গৌতম মজুমদার চেম্বারে বসে একদিকে যেমন স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা করছেন, অন্যদিকে মোবাইলের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদেরও চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন।

একসময় চিকিৎসকের হাতে সব সময় মোবাইল দেখে অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কেউ কেউ মনে করতেন, চেম্বারে ঢুকেই হয়তো মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চিকিৎসক। এমন অভিযোগও উঠেছিল। সেই বিভ্রান্তি দূর করতেই এবার নিজের টেবিলে একটি ছোট্ট সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন ডাঃ গৌতম মজুমদার। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে—“টেলিমেডিসিন পরিষেবার মাধ্যমে মোবাইলে রোগী দেখছেন ডাক্তারবাবু।”ডাঃ গৌতম মজুমদার জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি এই টেলিমেডিসিন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের এমন বহু প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। সেই সমস্ত এলাকা থেকেই মোবাইলের মাধ্যমে রোগীদের রিকোয়েস্ট আসে। রোগীর সমস্যা ও উপসর্গ সম্পর্কে জানার পর তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে ওষুধের প্রেসক্রিপশনও করেন।অর্থাৎ, চিকিৎসকের হাতে থাকা মোবাইলটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়—অনেক মানুষের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।তবে শুধু টেলিমেডিসিন পরিষেবাই নয়, কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীদেরও নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয় এই আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে। রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়।ডাঃ গৌতম মজুমদারের কথায়, টেলিমেডিসিনের ফলে দূরবর্তী এলাকার বহু মানুষ বাড়ির কাছাকাছি থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে যেখানে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে এই পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।ফলে চেম্বারে বসে চিকিৎসকের হাতে মোবাইল দেখলেই যে তিনি রোগী না দেখে মোবাইল ঘাঁটছেন—এমন ধারণা যে সম্পূর্ণ ভুল, কালিয়াগঞ্জের আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের এই পরিষেবাই তার বড় প্রমাণ। চোখের সামনে মোবাইলে ব্যস্ত ডাক্তারবাবু, কিন্তু সেই মোবাইলের ওপারেই অপেক্ষা করছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য রোগী।


