মোদী সরকারের বড় সাফল্য: ৭ বছরে ৩৬ দেশ থেকে দেশে ফিরল ২৭৪ পলাতক অপরাধী

নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট:[  PIB Kolkata ] প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের তত্ত্বাবধানে পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা দেশের অপরাধ দমন ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সরকারের দাবি, ২০১৮ সালের ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স অ্যাক্ট (Fugitive Economic Offenders Act) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

২০১৪ সালের আগে প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সে সময় মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর ছিল এবং ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বছরে গড়ে মাত্র চারজন পলাতক অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি, ১১০টিরও বেশি প্রত্যর্পণের আবেদন বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কূটনৈতিক সমন্বয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সরকারের বক্তব্য, পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ দেশের সার্বভৌমত্ব, আর্থিক স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গত তিন বছরে ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ জারি হয়েছে। একই সঙ্গে চালু হয়েছে BHARATPOL ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারপোলের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১,৪০০টি সংস্থার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও, এনআইএ আইন, অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এবং নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন কার্যকর করে পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারার মাধ্যমে অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার বিধান কার্যকর হয়েছে।সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক আর্থিক অপরাধীদের ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ১৮,৭৬২ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।এছাড়া, ‘অপারেশন ত্রিশূল’-এর মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বিদেশে পরিচয় পরিবর্তন করলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি স্ট্যান্ডিং ফোকাস গ্রুপ গঠন করেছে। এই গোষ্ঠী পলাতক অপরাধীদের মামলাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডসিয়ার প্রস্তুত করছে এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রত্যেক পলাতক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।