‘গামারী নদীকে বাঁচাতেই হবে’—ইটাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সচেতনতা শিবির, নদী সংরক্ষণের বার্তা জেলা ইতিহাস সংকলন সমিতির

 

হারিয়ে যেতে বসা ইটাহারের ঐতিহ্যবাহী গামারী নদীকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এক বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হল শুক্রবার। উত্তর দিনাজপুর জেলা ইতিহাস সংকলন সমিতির উদ্যোগে এবং ইটাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গামারী নদীর অতীত ইতিহাস, বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যতে নদী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করে তোলা।

এদিন একটি বিশেষ ‘নদী বাঁচাও’ প্রকল্প ও তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে গামারী নদীর উৎপত্তি, প্রবাহপথ, অতীতের গুরুত্ব এবং বর্তমানে কীভাবে নদীটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে, তার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। পরিবেশ রক্ষা এবং নদী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের ভূমিকা সম্পর্কেও ছাত্র-ছাত্রীদের অবহিত করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা ইতিহাস সংকলন সমিতির সভাপতি ড. বৃন্দাবন ঘোষ, ইটাহার থানার আইসি গৌতম চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষক অজয় চক্রবর্তী, দেবব্রত শীল-সহ এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।ড. বৃন্দাবন ঘোষের বক্তব্য জেলা ইতিহাস সংকলন সমিতির সভাপতি ড. বৃন্দাবন ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন,”একটি নদী শুধু জলধারা নয়, একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। গামারী নদী একসময় ইটাহারের প্রাণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে নদীটি আজ অস্তিত্বের সংকটে। যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় গামারী নদীর নাম পড়বে, বাস্তবে আর দেখতে পাবে না। তাই ছোটবেলা থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নদী ও পরিবেশ রক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাদের হাত ধরেই ভবিষ্যতে নদী পুনরুজ্জীবনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।”তিনি আরও বলেন, জেলা ইতিহাস সংকলন সমিতি ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, যাতে ইতিহাস ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি করে উৎসাহিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও পরিবেশ রক্ষা, নদী সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও গামারী নদীকে রক্ষার বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে।এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, বিদ্যালয় স্তর থেকেই পরিবেশ ও নদী সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।