‘আমি’ পত্রিকার সুবর্ণজয়ন্তী সাহিত্য আসরে সম্মানিত উত্তর দিনাজপুরের দুই কবি অশোক রায় ও ড. সুনীল চন্দ

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ | ১০ জুলাই:দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের বাওয়ালি গ্রামে অনুষ্ঠিত হল প্রখ্যাত সাহিত্যপত্র ‘আমি’-র সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের বর্ণাঢ্য সাহিত্য আসর। দীর্ঘ ৫০ বছরের সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্য বহনকারী এই পত্রিকার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উত্তর দিনাজপুর জেলার দুই বিশিষ্ট কবি অশোক রায় এবং ড. সুনীল চন্দ-কে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত এই সাহিত্য আসরে সম্মাননা তুলে দেন ‘আমি’ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি বৃন্দাবন দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান শিক্ষক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক মানবেন্দ্র রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি সুভদ্রা ভট্টাচার্য।সাহিত্যসভায় উপস্থিত থেকে সাহিত্যচর্চা ও সমকালীন বাংলা সাহিত্য নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলোক বিশ্বাস ও অদীপ ঘোষ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক সুনীল মাঝি, সুব্রত সেন, ড. বনানী চক্রবর্তী, ড. সুনীল চন্দ্র, অশোক রায়, তাজিমুর রহমান, দিশা চট্টোপাধ্যায়, অবশেষ দাস, সত্যরঞ্জন মণ্ডল, পার্থ শর্মা, ভাগ্যধর মণ্ডল, শেখ মোজাম্মেল, বীথিকা রায়, অধীর কৃষ্ণ মণ্ডল, শ্রীমোহন মণ্ডল, ডা. নীলাদ্রি বিশ্বাস, স্বপন কুমার মান্না, অমিত কাশ্যপ, বিমল রায়, আলোক কুমার ঘোষ-সহ বহু কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্যপ্রেমী।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘আমি’ পত্রিকার সম্পাদক কবি বৃন্দাবন দাস আবেগঘন ভাষায় বলেন,“‘আমি’ পত্রিকাকে আমি নিজের সন্তানের মতোই ভালোবেসে ৫০ বছর ধরে লালন-পালন করেছি। একজন পিতা হয়তো সন্তানকে ৫০ বছর ধরে আগলে রাখেন না, কিন্তু ‘আমি’ পত্রিকাকে আমাকে পাঁচ দশক ধরে বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সাহিত্যধারাকে একই নিষ্ঠায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘আমি’ পত্রিকার ১০০তম সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। পত্রিকার দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার এই মাইলফলককে ঘিরে উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনেরা সম্পাদক বৃন্দাবন দাসকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলা সাহিত্যচর্চায় তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত এই সাহিত্য আসর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন কবি ব্রজেন্দ্রনাথ ধর এবং কবি বসন্ত পরামানিক। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার আবহে ভরপুর এই অনুষ্ঠান বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের এক স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে উপস্থিত সকলের মনে বিশেষ ছাপ রেখে যায়।