দুর্নীতির অভিযোগে মাটিকুমান্ডা–২ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন, বিডিওর হস্তক্ষেপে কাটল অচলাবস্থা

আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ (এনআরইজিএস), ‘পাড়ায় সমাধান’ সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূল পরিচালিত মাটিকুমান্ডা–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে সরব হল বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপির মাটিকুমান্ডা–২ অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ডেপুটেশন কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবাস যোজনার ঘর বণ্টন থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তারা তদন্তের দাবি জানান।

একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা।মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে বিজেপি নেতা–কর্মীরা মাটিকুমান্ডা–২ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছালে দেখা যায়, পঞ্চায়েতের প্রধান–সহ অধিকাংশ নির্বাচিত সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত নেই। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, জনস্বার্থের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই পঞ্চায়েতের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থেকেছেন।এরপর পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং দাবি করেন, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান না হলে এবং অভিযোগের জবাব না দেওয়া হলে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এই হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ প্রশাসন এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। পরে ইসলামপুর ব্লকের বিডিও পিনাকী দেবনাথ নিজে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।বিডিওর আশ্বাসের পর বিজেপি নেতৃত্ব পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে। তবে বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অভিযোগগুলির সঠিক তদন্ত না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে তারা।বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রধান ও সদস্যরা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকায় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেই কারণেই জনগণের স্বার্থে এবং পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক পরিষেবা চালু রাখার দাবিতে এই ডেপুটেশন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর শহর মণ্ডলের সভাপতি চিত্রজিৎ রায়, বিজেপি মণ্ডল সভাপতি ভবেশ চন্দ্র সিংহ, বিজেপি নেতা পরিমল সিংহ–সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মী–সমর্থক।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ইসলামপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির তোলা অভিযোগ কতটা সত্য এবং প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। তবে এই ঘটনার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে এলাকায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।