রাজ্য বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা, কালিয়াগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস
তন্ময় চক্রবর্তী আজ রাজ্য বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট পেশ করার পর সারা রাজ্যের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জেও দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে সাধারণ মানুষের এক বড় অংশ এই বাজেটকে ‘জনমুখী’ ও ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্প, ভাতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় খুশির হাওয়া লক্ষ্য করা গেছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে।কালিয়াগঞ্জের একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার প্রসারে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা এবং নতুন শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”সরকারি কর্মচারীদের একাংশ বাজেটে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে যে জটিলতা চলছিল, তার মধ্যে এই বৃদ্ধি কর্মচারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এক সরকারি কর্মচারী বলেন, “যদিও আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ছিল, তবুও এই ঘোষণা ইতিবাচক পদক্ষেপ।”আশা কর্মীদের মধ্যেও বাজেট নিয়ে সন্তোষের সুর শোনা গেছে। তাঁদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক আশা কর্মী বলেন, “গ্রামের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের উৎসাহিত করবে।”কৃষকদের মধ্যেও বাজেট নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন, তিস্তা প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং কৃষি ভর্তুকির ঘোষণায় খুশি কৃষক সমাজ। কালিয়াগঞ্জের এক কৃষক বলেন, “সেচের সমস্যা মিটলে উৎপাদন বাড়বে। সরকার কৃষকদের কথা ভেবেই এই বাজেট করেছে বলে মনে হচ্ছে।”প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার প্রতিবন্ধী নাগরিকরা। তাঁদের মতে, এই আর্থিক সহায়তা দৈনন্দিন জীবনে অনেকটাই সহায়ক হবে।বয়স্ক ভাতা প্রাপকরাও বাজেট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “বর্তমান বাজারদরে সংসার চালানো কঠিন। ভাতা বৃদ্ধির ফলে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে। সরকার প্রবীণদের কথা ভেবেছে, এজন্য আমরা খুশি।”ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও বাজেট নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষা ঋণ, বৃত্তি, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। এক কলেজ পড়ুয়া বলেন, “সরকার শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ায় ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছি।”মহিলাদের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা বলেন, “মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য এই বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের একাংশের মতে, এই বাজেটে উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে প্রকল্পগুলির সঠিক রূপায়ণ কতটা হয়, তার উপরই সাফল্য নির্ভর করবে।সব মিলিয়ে কালিয়াগঞ্জে সাধারণ মানুষের এক বড় অংশের মত, এই বাজেট সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছে।যদিও কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি বরাদ্দের
দাবি উঠেছে, তবুও শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, আশা কর্মী, কৃষক, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, ছাত্রছাত্রী ও মহিলাদের জন্য ঘোষিত একাধিক সুবিধার কারণে এই বাজেটকে অনেকেই ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘জনকল্যাণমুখী’ বাজেট বলে অভিহিত করেছেন। এখন সকলের নজর থাকবে ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নের দিকে।




