“ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের ন্যায্য অধিকারের লড়াই জোরদার করতে ২ জুলাই হাওড়ায় মহাসমাবেশ, আসছেন সর্বভারতীয় সভাপতি কমান্ডার অশোক রাউত”
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ১৮ জুন: ইপিএস-৯৫ ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আগামী ২ জুলাই হাওড়ার শরৎ সদনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ষষ্ঠতম রাজ্য সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে পেনশনভোগী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটির সর্বভারতীয় সভাপতি কমান্ডার অশোক রাউত। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সিং রানাওয়াত সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিশিষ্ট নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা।
এই বিষয়ে সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন দত্ত জানান, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের লক্ষ লক্ষ বেসরকারি ও আধাসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী অত্যন্ত সামান্য পেনশনের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে বহু পেনশনভোগী মাসিক মাত্র এক হাজার টাকার কাছাকাছি পেনশন পেয়ে থাকেন, যা বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে জীবনধারণের জন্য একেবারেই অপ্রতুল।তিনি বলেন, ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি হল সর্বনিম্ন ৭,৫০০ টাকা মাসিক পেনশন, তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা। এই দাবিগুলি নিয়ে সংগঠনটি গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন কর্মসূচি চললেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।তপন দত্ত আরও জানান, বর্তমানে মহারাষ্ট্রের বুলডানায় আন্দোলনকারীরা অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে হাওড়ার রাজ্য সম্মেলন থেকে পেনশনভোগীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদেরও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। সেই লক্ষ্যে আগামী দিনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার বার্তাই দেওয়া হবে এই সম্মেলন থেকে।ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি ও সদস্যদের হাওড়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংগঠনের আশা, এই সম্মেলন ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে নতুন গতি দেবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।২ জুলাইয়ের এই রাজ্য সম্মেলনকে ঘিরে এখন পেনশনভোগী মহলে একটাই প্রত্যাশা—“ন্যায্য পেনশন, মর্যাদার জীবন”।
