“রেশন ও রাইস মিল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় পশ্চিম কুনোর! নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব এলাকাবাসী,

তন্ময় চক্রবর্তী  :-পশ্চিম কুনোর এলাকায় রাইস মিল, রেশন বণ্টন ব্যবস্থা এবং সরকারি সুবিধা প্রদানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে।

এই অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রেশন ও খাদ্যশস্য সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের কয়েকজন কর্মী এবং ভারতীয় খাদ্য নিগম (FCI)-এর কিছু কর্মকর্তার নাম বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম কুনোর এলাকার রাইস মিল মালিক নজরুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। রাইস মিল পরিচালনা এবং রেশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি এলাকার কিছু হিন্দু, রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি, অতীতে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে।এছাড়াও, আর্থিক সংকটে থাকা গরিব ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কম মূল্যে জমি ক্রয়ের অভিযোগও স্থানীয় মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে রেশন বণ্টন, রাইস মিল পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।এরই মধ্যে অভিযোগকারী বিনীত রায় একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, গত ১৬ জুন গভীর রাতে তিনি জানতে পারেন যে প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া তাঁর অভিযোগপত্র এবং ব্যক্তিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে গেছে। এরপর অভিযুক্ত পক্ষের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।বিনীত রায়ের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন অভিযোগকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং এটি সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের ওপরও আঘাত। অভিযোগ প্রকাশ্যে চলে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন।তিনি বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজের নজরে এনেছেন বলে জানান।অন্যদিকে, অভিযোগের জবাবে রাইস মিল মালিক নজরুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। যদি কোনো অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশাসনিক শাস্তি মাথা পেতে নিতে আমি প্রস্তুত।”এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্বিশেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, সরকারি সুবিধা ও সাধারণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে জড়িত কোনো অভিযোগকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। তাই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ।

(উল্লেখ্য: উল্লিখিত অভিযোগগুলির স্বাধীন তদন্ত ও সরকারি যাচাই এখনও সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।)