আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানির অভিযোগ! পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, টাকা ফেরতের দাবিতে সরব গ্রামবাসী
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে টাকা ফেরতের দাবিতে সোমবার সকালে চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৮ নম্বর ভুটিঝারি বুথের জ্যোতি নগর কলোনিতে অবস্থিত পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ শিকদারের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিশ্বজিৎ শিকদার বহু মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে ১৫ হাজার, কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত ঘর পাননি কেউই। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু দেবনাথ, শ্যামল পাল, মানিক কর্মকার এবং দুখুরানি বরাই অভিযোগ করে বলেন, শুধু আবাস যোজনার ঘরের নাম করে টাকা নেওয়াই নয়, বিজেপি সমর্থক বা বিজেপি করার অভিযোগ তুলে কয়েকজনের কাছ থেকে জরিমানা হিসেবেও টাকা আদায় করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সমস্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ জানাবেন।অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তাঁর দাদা বিনয় শিকদার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তাঁর ভাই বর্তমানে বাড়িতে নেই। বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাবেন বলে তিনি জানান।এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি নিত্য পাল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে কেউ যদি সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নিয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই অপরাধ।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁদের টাকা ফেরতের দাবিতে প্রতিবাদ জানাতেই পারেন, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “বিজেপি করার কারণে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। যদি ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তাহলে তাঁরা অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। দল তাঁদের পাশে থাকবে।”ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

