মানবিক উদ্যোগে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: সরলা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ে আড়াই লক্ষ টাকার বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রকল্প উৎসর্গ চন্ডক পরিবারের

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ৭ জুন:সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগের সাক্ষী থাকল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরলা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়। স্বর্গীয় মদন লাল চন্ডক ও স্বর্গীয়া রামদেই দেবী চন্ডক–

পবিত্র এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁদের পুত্র, কালিয়াগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিজয় কিষণ চন্ডক এবং পুত্রবধূ বৃন্দা দেবী চন্ডক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দিলেন।রবিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সাদামাটা অথচ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অত্যাধুনিক বিশুদ্ধ পানীয় জলের ট্যাব ও পরিশোধন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজয় কিষণ চন্ডক, তাঁর সহধর্মিণী বৃন্দা দেবী চন্ডক এবং রিচা কোঠারী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজয় কিষণ চন্ডক জানান, তাঁর প্রয়াত বাবা-মায়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই ভাবনা থেকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”তিনি আরও জানান, এটি তাঁদের পরিবারের প্রথম সামাজিক উদ্যোগ নয়। এর আগেও কালিয়াগঞ্জের আরও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একইভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।জানা গেছে, বিদ্যালয়ে স্থাপিত এই বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এর ফলে বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবে, যা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিত কুমার দত্ত, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক বিমল সেন, সন্তোষ বেঙ্গানি, ভূপেন্দ্র মোহন ঝা।, সীতারাম তাপাড়িয়া, দিনদয়াল শর্মা, রাকেশ সাহা সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চন্ডক পরিবারের এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি এভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা আরও বেশি উপকৃত হবে।চন্ডক পরিবারের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি পানীয় জলের প্রকল্প নয়, বরং আগামী প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রতি এক গভীর সামাজিক অঙ্গীকারের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল।