উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়নে বড় রূপরেখা! রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সাংসদ কার্তিক পাল, দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়ক — এমস হাসপাতাল থেকে কর্মসংস্থান, আলোচনায় একাধিক বড় পরিকল্পনা
তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরি ও বিরাজ বিশ্বাস, পাশাপাশি জেলার দুই বিধায়ক উৎপল মহারাজ এবং হরিপদ বর্মন।সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতেই রাজ্য সভাপতিকে পুষ্পস্তবক দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

এরপর জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর দিনাজপুরের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পিছিয়ে পড়ার তকমা ঘোচাতে এই বৈঠক ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।জানা গেছে, বৈঠকে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন এবং আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বিশেষভাবে উঠে এসেছে উত্তর দিনাজপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গ। সূত্র মারফত জানা যায়, জেলায় একটি এমস (AIIMS) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে এই আলোচনা জেলার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেভাবে সাংসদ, মন্ত্রী ও বিধায়করা একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছেন, তা জেলার রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এই জেলার জন্য এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব থাকায় এখন উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগোতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, জেলার জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে উন্নয়নের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন, তা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে।বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দারা কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উত্তর দিনাজপুর মূলত একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে যদি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, কৃষিভিত্তিক কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা যায়, তাহলে বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের জেলাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এতে জেলার অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই হাজার হাজার পরিবারের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের বৈঠক শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং উত্তর দিনাজপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন জেলার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন, এই আলোচনার বাস্তব প্রতিফলন কত দ্রুত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে মাটিতে নেমে আসে।

