কালিয়াগঞ্জে এলইডি স্ট্রিট লাইট প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ এক নাগরিক, তদন্তের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্যপ্রায় ৮০ শতাংশ টাকা মিটে গেল কাজ শেষ হওয়ার আগেই?
তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পুরসভার এলইডি স্ট্রিট লাইট প্রকল্পকে ঘিরে উঠল গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ ঠিকাদার সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের এক নাগরিক । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কালিয়াগঞ্জ পুরসভার অধীনে গ্রিন সিটি মিশন ফান্ডের অর্থে ৬০ ওয়াটের এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ, স্থাপন ও ফিটিংয়ের জন্য প্রায় ৯২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩০৪ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগকারী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি জানতে পারেন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমানভাবে সম্পূর্ণ না হলেও ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং একই বছরের আগস্ট মাসে আরও ২১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৪৩ টাকা ঠিকাদার সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে।

এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে তিনি তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) মাধ্যমে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকের কাছে আবেদন করেন।
অভিযোগ, প্রথমে কোনও উত্তর না পাওয়ায় তাঁকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে RTI আপিল করতে হয়।

পরে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং সেই কারণে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা সম্ভব নয়।এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, যদি প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হয়ে থাকে, তাহলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে মোট প্রকল্প মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ ঠিকাদার সংস্থাকে প্রদান করা হল?

এই ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে অনিয়ম বা দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই তাঁর সন্দেহ।মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে কালিয়াগঞ্জ পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান, নির্বাহী আধিকারিক, অর্থ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলীর ভূমিকা খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনও করেছেন।

এই অভিযোগ সামনে আসতেই কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এখন নজর রাজ্য সরকারের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেয় কিনা, সেটাই দেখার। তবে একজন সাধারণ নাগরিকের এমন সরাসরি অভিযোগ কালিয়াগঞ্জের এই প্রকল্পকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।

