“কোথায় গেলেন সেই সোশ্যাল মিডিয়ার ‘যোদ্ধারা’? রাজনৈতিক পালাবদলে প্রশ্নের মুখে নীরবতা”

তন্ময় চক্রবর্তী  :-কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উঠছে এক প্রশ্ন—যারা একসময় দিনরাত সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধীদের, বিশেষ করে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলের আবহে তাঁদের অনেককেই এখন আর আগের মতো দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আলোচনায় এই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।একসময় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইভ ভিডিও, পোস্ট, মন্তব্য ও রাজনৈতিক বক্তব্যে যাঁরা অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করতেন, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদী অবস্থান নিতেন, তাঁদের উপস্থিতি এখন তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কমে এসেছে—এমনই মত স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

 

রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই বলছেন, সময় বদলালে রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের ধরন বদলানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু আচমকা নীরবতা মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে।স্থানীয় চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে বাজার, মোড় কিংবা সামাজিক মাধ্যম—বিভিন্ন জায়গায় আলোচনায় উঠে আসছে একটি বিষয়: রাজনৈতিক অবস্থান কি আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তৈরি হয়, নাকি সময়, সুবিধা ও পরিস্থিতি বুঝে বদলে যায়? সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, যারা এতদিন প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে রাজনৈতিক মতামত দিতেন, বিরোধীদের আক্রমণ করতেন, বিভিন্ন বিতর্কে সক্রিয় ভূমিকা নিতেন, আজ তাঁদের অবস্থান কী?বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের দাবি, “যখন রাজনৈতিক সুবিধা থাকে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চকণ্ঠ হওয়া সহজ, কিন্তু সংকটের সময় বা রাজনৈতিক চাপে অনেকেই নীরব হয়ে যান।”

 

যদিও এই বক্তব্যের পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। শাসকদল সমর্থকদের একাংশ বলছেন, “রাজনীতি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার শব্দে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠে কাজ করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা—এসবই আসল রাজনৈতিক পরিচয়।”তবে প্রশ্ন এখানেই শেষ নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম এখন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অন্যতম বড় ক্ষেত্র। ফলে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তাঁদের আচমকা নীরবতা জনমানসে কৌতূহল তৈরি করতেই পারে। কারণ মানুষ শুধু বক্তব্য নয়, ধারাবাহিকতাও বিচার করে।

 

অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক সমালোচনা যদি আদর্শের ভিত্তিতে হয়, তবে পরিস্থিতি যাই হোক, বক্তব্যের ধারাবাহিকতা থাকা উচিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই সচেতনভাবে নীরব থাকেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা সংঘাত এড়ানো যায়। ফলে বিষয়টিকে একমাত্রিকভাবে দেখাও ঠিক নয়।কালিয়াগঞ্জের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক সক্রিয়তা কি সত্যিই জনসংযোগের প্রতিচ্ছবি, নাকি তা শুধুই ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ?

 

কারণ বাস্তব রাজনীতিতে মাঠে উপস্থিতি, সাংগঠনিক ভূমিকা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে।রাজনীতির ময়দানে মতভেদ থাকবে, সমালোচনা থাকবে, পাল্টা সমালোচনাও থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জনতার চোখে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে ওঠে জবাবদিহি, অবস্থানের ধারাবাহিকতা এবং সংকটের সময়ে কে কতটা দৃশ্যমান। তাই কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক আবহে এখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন—যারা এতদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিলেন, তাঁরা কি সাময়িক নীরব, নাকি বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক ভাষ্য ও অবস্থানের চিত্র?