“রাধিকাপুর ও ধনকৈলে জনসংযোগে বিধায়ক উৎপল মহারাজ! অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তা কেন্দ্র উদ্বোধনে ভিড়, সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা”
তন্ময় চক্রবর্তী :-উত্তর দিনাজপুর জেলার রাধিকাপুর ও ধনকৈল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শুক্রবার দিনভর পরিদর্শনে গিয়ে এলাকার উন্নয়ন, জনসংযোগ এবং সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক Utpal Maharaj।

এই দিন তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন এবং এলাকার বহু মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও চাহিদার খোঁজখবর নেন।
এলাকার প্রবীণ, মহিলা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বহু সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেলেও সঠিক তথ্য, নথিপত্র বা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। সেই সমস্যার সমাধান করতেই রাধিকাপুর ও ধনকৈল অঞ্চলে চালু করা হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম ফিলাপ সহায়তা কেন্দ্র। এখানে বিনামূল্যে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই ও ফর্ম পূরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এলাকার বহু মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক উৎপল মহারাজ বলেন,“মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অনেক সময় সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তথ্যের অভাব বা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বঞ্চিত হন।
তাই আমরা চাই মানুষ যেন সহজভাবে আবেদন করতে পারেন, কোনো দালালচক্রের শিকার না হন এবং প্রকৃত সুবিধা তাঁদের হাতে পৌঁছায়। অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তা কেন্দ্র সেই উদ্দেশ্যেই চালু করা হলো।”তিনি আরও বলেন,“আমি শুধু ভোটের সময় মানুষের কাছে আসি না, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকতে চাই। রাধিকাপুর ও ধনকৈল অঞ্চলের রাস্তা, নদীভাঙন, পানীয় জল, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা—সব বিষয় নিয়েই আমরা কাজ করছি। মানুষ সমস্যার কথা বলবেন, আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।
”বিধায়কের বক্তব্য চলাকালীন বহু মানুষ নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন। কেউ রাস্তার উন্নয়নের দাবি জানান, কেউ সরকারি সুবিধা পেতে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ করেন। এদিন বিধায়ক তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,“আগে অনেক সময় ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হতো। কোথায় যেতে হবে, কী লাগবে বুঝতাম না। এখন এলাকায় কেন্দ্র হওয়ায় সুবিধা হবে।”এক মহিলা উপভোক্তার কথায়,“আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জন্য এই ধরনের সাহায্য খুব দরকার। বিধায়ক নিজে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, এটা ভালো লাগছে।”এক যুবক বাসিন্দা বলেন,“সরকারি প্রকল্প নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। যদি এই কেন্দ্র নিয়মিত কাজ করে, তাহলে গ্রামের মানুষ অনেক উপকৃত হবে।”দিনভর কর্মসূচির শেষে বিধায়ক উৎপল মহারাজ জানান, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতিশীল করাই তাঁর লক্ষ্য। রাধিকাপুর ও ধনকৈল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভবিষ্যতেও নিয়মিত জনসংযোগ ও পরিষেবা সহায়তা শিবির আয়োজন করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

