কালিয়াগঞ্জে চাঞ্চল্য! চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, গোপনে তদন্তে নামল বিজেপি
তন্ময় চক্রবর্তী : রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়ের আবহেই এবার বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে। এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে।সূত্রের খবর, এই প্রতারণা চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোন কোন বড় মাথার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে গোপনে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শুধুমাত্র একজন নেতা নন, এর পেছনে একটি বড়সড় চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গোপনে নথিপত্র এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে তারা, যাতে আগামী দিনে এই দুর্নীতিকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বড় অস্ত্র করা যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত মূল তৃণমূল নেতার পাশাপাশি তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ অনুগামী এবং এলাকার কয়েকজন দালালও এই চক্রের সক্রিয় অংশীদার। চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করতে সরকারি দপ্তরের জাল নিয়োগপত্র বা ভুয়ো ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠছে এদের বিরুদ্ধে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এখনও সমস্ত নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে বিজেপির দাবি—সময়মতো সব নাম তাঁরা ফাঁস করবেন।রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে যেভাবে নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত রথী-মহারথীরা একে একে শ্রীঘরে ঠাঁই পাচ্ছেন, ঠিক একইভাবে কালিয়াগঞ্জেও দ্রুত কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ।
প্রতারিত হওয়া পরিবারগুলির বক্তব্য:”জমি-জায়গা, ঘটি-বাটি বিক্রি করে আমরা এই নেতাদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলাম। আজ আমরা নিঃস্ব। আমরা চাই সরকার অন্যান্য জায়গার মতোই কালিয়াগঞ্জেও অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করুক এবং এই দুর্নীতিবাজ নেতাদের কঠোরতম শাস্তি দিক।” বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন দুর্নীতির অভিযোগ কালিয়াগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই গোপন তদন্তের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায় ।

উল্লেখ্য কালিয়াগঞ্জের এমনও অনেক তৃণমূলের মুখোশধারী দালাল চক্র বাজারে নেমেছিল যাদের কাজই ছিল তৃণমূলের উপর তোলার প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা। চাকরি তো তারা দিতেই পারেননি উল্টো যে টাকা তারা নিয়েছে সেই টাকাও এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে তারা দিতে পারেননি। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন সেই সব নেতারা ফোনের সুইচ অফ করে দিয়ে বেমালুম বেপাত্তা হয়ে রয়েছে। অবিলম্বে এই সমস্ত দালাল চক্রদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সাধারণ মানুষরা।
