“আবাস যোজনায় টাকার খেলা? ইসলামপুরে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে বিতর্ক”
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ব্লকে আবাস যোজনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক দানা বাঁধল। আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে সোমবার ইসলামপুরের বিডিও অফিসে ডেপুটেশন জমা দেন একাধিক উপভোক্তা এবং বিজেপি নেতৃত্বরা।

ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।অভিযোগের তির ইসলামপুর ব্লকের মাটিকুন্ডা–২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী উপভোক্তাদের দাবি, আবাস যোজনায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁদের আগে থেকেই পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁদেরও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।সোমবার ১০ জনেরও বেশি উপভোক্তা ইসলামপুর বিডিও অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, প্রকৃত গরিব ও ঘরহীন মানুষকে বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তোলেন তাঁরা।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্প সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য হলেও বাস্তবে তা দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগে কলঙ্কিত হচ্ছে। তাঁদের আরও দাবি, বহু সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিলেও এখনও পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাননি, ফলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।এদিন ডেপুটেশনে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বরাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেন অভিযোগ করেন, আবাস যোজনাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার সাধারণ মানুষ সরাসরি সামনে এসে অভিযোগ করায় বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, অবিলম্বে প্রশাসন তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। এমনকি অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এখন প্রশ্ন উঠছে—আবাস যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ কতটা সত্যি? প্রশাসনিক তদন্তে কি সামনে আসবে নতুন তথ্য? নাকি রাজনৈতিক তরজার মাঝেই চাপা পড়ে যাবে অভিযোগ? সেই দিকেই তাকিয়ে ইসলামপুরের মানুষ।
