উত্তর দিনাজপুরে বিএসএফের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের হাতে ৩৬২ একর জমির খতিয়ান হস্তান্তর, জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোর সমন্বয়ের উপর

 

উত্তর দিনাজপুর জেলায় সীমান্ত সুরক্ষা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে  জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। জেলা শাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসন, পুলিশ এবং বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা শাসক উত্তর দিনাজপুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক (DL&LRO), অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ)

সহ বিএসএফের ৬৩ ব্যাটালিয়ন, ৮৭ ব্যাটালিয়ন, ১৭ ব্যাটালিয়ন এবং ১৩২ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টরা।এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা মোট ৩৬২.৫৪৬১ একর জমির ROR (Record of Rights/খতিয়ান) আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কমান্ড্যান্টদের হাতে তুলে দেওয়া। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই জমি সংক্রান্ত নথি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।এদিন শুধুমাত্র জমি সংক্রান্ত বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি প্রশাসন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন দপ্তরকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।এই সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল আইবি, স্টেট আইবি, জিআরপি, ফায়ার সার্ভিস, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), কাস্টমস, ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার অধীনস্থ বিএসএফের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)।বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃরাজ্য অপরাধ দমন, মাদক পাচার রোধ, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি, রেল নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে উত্তর দিনাজপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করলে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা আরও বাড়বে।”এই বৈঠককে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএসএফ ও প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় সীমান্ত এলাকায় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।