“৮ বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ!” বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ব্যান্ড বাজিয়ে চুল–দাড়ি কাটলেন চোপড়ার বিজেপি নেতা সুটকা সিংহ

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার চোপড়ায় দেখা গেল এক অভিনব ও চর্চিত রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী। দীর্ঘ আট বছরের কঠিন প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে অবশেষে চুল–দাড়ি কাটলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের চুয়াগাড়ি এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা সুটকা সিংহ। বুধবার ব্যান্ড পার্টি, শোভাযাত্রা, ঢাক–ঢোল এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ আচার মেনে নিজের বহু বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল এই রাজনৈতিক শপথের গল্প। সেই সময় সুটকা সিংহের স্ত্রী বিজেপির তরফে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের কারণে বিরোধী প্রার্থীদের কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।

ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ভোট গণনা কার্যত থমকে যায়।এই ঘটনার প্রতিবাদেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সুটকা সিংহ। তিনি প্রকাশ্যে প্রতিজ্ঞা করেন— যতদিন না পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল সরকারের পতন হচ্ছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, ততদিন তিনি নিজের চুল–দাড়ি কাটবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই গত আট বছর ধরে এক অনন্য রাজনৈতিক বার্তা বহন করে চলেছেন তিনি।এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে সুটকা বাবুকে। পরিবারের একের পর এক সদস্যের মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, তাঁর ঠাকুরদা ও জেঠিমা–সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গত কয়েক বছরে প্রয়াত হন। বিশেষ করে ঠাকুরদার মৃত্যুর পর সামাজিক ও পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী চুল–দাড়ি কাটার জন্য প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল। আত্মীয়–স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা পর্যন্ত তাঁকে নিয়ম মানার অনুরোধ করেছিলেন।কিন্তু নিজের রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা থেকে একচুলও সরেননি সুটকা সিংহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “দল ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত আমি চুল–দাড়ি কাটব না।”অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হতেই তাঁর সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত এসে পৌঁছায়। বুধবার খোঁজারুগছ এলাকার উত্তর বাহি ডাউক নদীর তীরে বিশেষ আচার–অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুল ও দাড়ি কাটেন তিনি। পরে নিয়ম মেনে নদীতে স্নান করে সেই চুল–দাড়ি জলে ভাসিয়ে দেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা আবির খেলায় মেতে ওঠেন। শুধু তাই নয়, সুটকা সিংহের এই রাজনৈতিক জেদ এবং প্রতিজ্ঞায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী মাথা ন্যাড়া করেন বলেও জানা গিয়েছে।পুরো অনুষ্ঠান উপলক্ষে এলাকাবাসীর জন্য মুড়ি–ঘুগনি ও খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন মুহূর্তে পরিণত হয় উৎসবে। এলাকার বহু সাধারণ মানুষও এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান।বর্তমানে বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডলের সহ–সভাপতির দায়িত্বে থাকা সুটকা সিংহের এই দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা ও অনড় মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন দলের নেতৃত্ব। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, “এটি শুধু একজন কর্মীর ব্যক্তিগত শপথ নয়, বরং দলের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক।”