“স্বাস্থ্য পরিষেবায় এবার কড়া নজর”আচমকা কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বিধায়ক উৎপল মহারাজ
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার আচমকাই কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শনে হাজির হন কালিয়াগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক উৎপল মহারাজ। হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবা, রোগীদের সমস্যা এবং বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়কের এই আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতাল চত্বরে তৈরি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।

এদিন হাসপাতালের সুপার জয়দেব রায়-কে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, রোগী পরিষেবা কেন্দ্র, এক্স-রে বিভাগ এবং দন্ত বিভাগ ঘুরে দেখেন বিধায়ক। শুধু প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণেই থেমে থাকেননি তিনি, রোগী এবং তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে হাসপাতালের বাস্তব পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

কোথাও চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে কিনা, ওষুধ বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে কিনা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়মিত হচ্ছে কিনা— সব বিষয়ই খুঁটিয়ে জানতে চান তিনি।বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে বিভাগ এবং দন্ত বিভাগ নিয়ে সাধারণ মানুষের একাধিক অভিযোগ সামনে আসছিল। কখনও পরিষেবা ব্যাহত হওয়া, কখনও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, আবার কখনও রোগীদের বাইরে থেকে পরিষেবা নিতে বাধ্য হওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। সেই অভিযোগগুলিকেই গুরুত্ব দিয়ে এদিন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বিধায়ক উৎপল মহারাজ। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের উপর জোর দেন।পরিদর্শনের পর এক সাক্ষাৎকারে বিধায়ক উৎপল মহারাজ বলেন,“কালিয়াগঞ্জের সাধারণ এবং গরিব মানুষ যাতে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেটাই আমার প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালের বিল্ডিং ঘুরে দেখলাম, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখলাম এবং সুপারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বিশেষ করে এক্স-রে এবং দন্ত বিভাগ নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি দ্রুত সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন,“অনেক সময় সামান্য কারণেও রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হয় বলে অভিযোগ আসে। আমি স্পষ্টভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে অযথা রোগীদের রেফার না করা হয় এবং কালিয়াগঞ্জ হাসপাতাল থেকেই যতটা সম্ভব উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়।”বিধায়কের এই আচমকা হাসপাতাল পরিদর্শনে খুশি সাধারণ মানুষও। বহু রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনও জনপ্রতিনিধিকে হাসপাতালের ভেতরে এসে সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতে দেখা গেল।
এক রোগীর আত্মীয় বলেন,“বিধায়ক নিজে হাসপাতালে এসে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা আশা করছি আগামী দিনে হাসপাতালের পরিষেবা আরও উন্নত হবে।”আরও এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়,“কালিয়াগঞ্জ হাসপাতাল উত্তর দিনাজপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। বিধায়ক যেভাবে বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, তাতে আমরা আশাবাদী স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসবে।

”স্থানীয়দের একাংশের মতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দিক থেকেই বিধায়ক উৎপল মহারাজের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশও মনে করছে, নবনির্বাচিত বিধায়কের এই সক্রিয় ভূমিকা আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখন দেখার, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষ বাস্তবে কতটা উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পান।


