“মালা বদলের বার্তা? কালিয়াগঞ্জ পৌরসভায় সাংসদের ইঙ্গিতে কেন্দ্রে বিভাস সাহা—দখল ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা”
তন্ময় চক্রবর্তী :- উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পৌরসভাকে ঘিরে হঠাৎ করেই তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। “পদ্মফুল” প্রতীক ঘিরে যখন এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের আকস্মিক পৌরসভা সফর নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। 
আর এই গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিজেপির কাউন্সিলর বিভাস সাহা।সূত্রের খবর, এদিন সাংসদ যখন কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন, তখন উপস্থিত কিছু পৌরকর্মী তাঁকে ফুলের মালা ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান।কিন্তু ঘটনার মোড়
ঘুরে যায় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন সাংসদ নিজের গলা থেকে সেই মালা খুলে সরাসরি বিজেপি কাউন্সিলর বিভাস সাহার গলায় পরিয়ে দেন। উপস্থিতদের একাংশের মতে, এই ঘটনাই যেন রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে।চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, সেখানে উপস্থিত অন্য বিজেপি কাউন্সিলরদের কাউকেই মালা না পরিয়ে শুধুমাত্র বিভাস সাহাকেই সম্মান জানানো—এটি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা—তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
প্রসঙ্গত, গত কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মোট ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১০টি আসন, বিজেপি পেয়েছিল ৬টি এবং একটি আসন যায় নির্দল প্রার্থীর ঝুলিতে। পরে সেই নির্দল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭-এ। ফলে পৌরসভা গঠনের জন্য বিজেপির প্রয়োজন আরও অন্তত ৩ জন কাউন্সিলরের সমর্থন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে ইতিমধ্যেই ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। গোপন সূত্রে জানা যাচ্ছে, শাসক দলের ৪ থেকে ৫ জন কাউন্সিলর নাকি বিজেপির দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে নারাজ, তবে অন্দরের এই গুঞ্জন রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে যদি আগামী দিনে বিজেপি অনাস্থা প্রস্তাব আনে, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, সেই সম্ভাব্য অনাস্থা ভোটে তৃণমূলের কয়েকজন কাউন্সিলর দলবিরোধী অবস্থান নিলে সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।অন্যদিকে, এই ঘটনায় কালিয়াগঞ্জের তৃণমূল শিবিরে স্পষ্ট অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিভাস সাহাকে কেন্দ্র করে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতের নেতৃত্বের ইঙ্গিতও হতে পারে। এমনকি অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনিই হতে পারেন পৌরসভার সম্ভাব্য মুখ্য পদপ্রার্থী।তবে এই সমস্ত জল্পনার মাঝেই একটি বিষয় স্পষ্ট—কালিয়াগঞ্জ পৌরসভায় এখন রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সত্যিই কি ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন, নাকি এটি শুধুই কৌশলগত চাপ সৃষ্টি—তার উত্তর দেবে সময়ই। এখন গোটা জেলার নজর কালিয়াগঞ্জের দিকেই।

