“ভোটের লাইন থেকে ট্রেনের লাইনে—উত্তর দিনাজপুরে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল, জীবিকার টানে ফের ভিন রাজ্যে”
তন্ময় চক্রবর্তী :-ভোটের উত্তাপ পুরোপুরি কাটার আগেই আবার জীবিকার তাগিদে ভিন রাজ্যের পথে পা বাড়ালেন উত্তর দিনাজপুর জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। রবিবার সকালে কালিয়াগঞ্জ রেল স্টেশন–এ দেখা গেল সেই চেনা ছবি—ব্যাগ–বোঝাই মানুষ, প্ল্যাটফর্ম জুড়ে অপেক্ষা, আর চোখেমুখে কাজের টান।স্টেশন চত্বরে সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে।
কেউ ছোট ট্রলি ব্যাগ হাতে, কেউ কাঁধে ঝোলা, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের কথাবার্তা সেরে নিচ্ছেন। ভোটের জন্য বাড়ি ফেরা এই শ্রমিকদের কাছে সময় যেন খুবই কম—দায়িত্ব শেষ, এখন ফেরার পালা।শুধু কালিয়াগঞ্জ নয়, একই দৃশ্য ধরা পড়েছে রায়গঞ্জ রেল স্টেশন–এও। শুক্রবারের পর শনিবারও অব্যাহত ছিল এই ভিড়। অধিকাংশ শ্রমিকই নির্মাণ ক্ষেত্র, ইটভাটা কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী কাজে যুক্ত। তাঁদের কর্মস্থল মূলত দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও বিহার।স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা এক গ্রামবাসী জানালেন,“বছরে প্রায় দশ মাসই বাইরে থাকি। শুধু ভোট দিতে বাড়ি এসেছিলাম। অনেক কষ্ট করেও ভোটটা দিলাম, কারণ না দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। এখন আবার কাজে ফিরতেই হবে।”এই বক্তব্যেই যেন প্রতিফলিত হচ্ছে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের বাস্তব চিত্র—গণতান্ত্রিক দায়িত্ব ও জীবিকার টান, দুয়ের মাঝেই তাঁদের জীবনযাত্রা।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এই জেলায় ভোটগ্রহণ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। ভোটদানের হারে নজির গড়েছে এই অঞ্চল। পাশাপাশি কোচবিহার জেলায় ভোট পড়েছে প্রায় ৯৪.১৬ শতাংশ, যা রাজ্যের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।অনেকের মধ্যেই এই ধারণা কাজ করেছে যে, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। আর সেই কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও এবারে দেখা গেছে ভোটদানের অভূতপূর্ব উৎসাহ।ভোট শেষ, দায়িত্বও শেষ—এবার আবার জীবনের লড়াইয়ে ফিরছেন তাঁরা। প্ল্যাটফর্মে বসে থাকা সেই ব্যাগভর্তি মানুষগুলো যেন একটাই কথা বলছে—
“ভোট দিলাম, এবার পেটের দায়ে ফিরতেই হবে।”
