ভোটের প্রস্তুতিতে চূড়ান্ত ব্যস্ততা, উত্তর দিনাজপুরে ডিসিআরসি কেন্দ্রগুলিতে জোরদার ব্যবস্থা

তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ,২০ এপ্রিল:আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী ২২ এপ্রিল ভোটকর্মীরা ডিসপারসাল ও রিসিভিং কাউন্টার (ডিসিআরসি) থেকে সংগ্রহ করবেন ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী। ইতিমধ্যেই ইভিএম কমিশনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটকর্মীরা রায়গঞ্জ-এর ডিসিআরসি কাউন্টার থেকে তাদের নির্দিষ্ট সামগ্রী সংগ্রহ করবেন। জেলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথকভাবে ডিসিআরসি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।

Raiganj Polytechnic College-এ তৈরি করা হয়েছে রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ এবং করণদিঘি বিধানসভার ডিসিআরসি। অন্যদিকে Islampur College-এ তৈরি করা হয়েছে চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া বিধানসভার ডিসিআরসি কেন্দ্র।ভোটকর্মীদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম ভেহিকেল পিকআপ পয়েন্টের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ডিসিআরসি কেন্দ্রগুলিতে রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা—পুরো এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে সুস্পষ্ট সাইনেজ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল ও পার্কিং সুবিধা।এছাড়াও, যেসব ভোটকর্মী অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ছোট ছোট ব্যাচে অন-স্পট ট্রেনিং-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ডিসিআরসি কেন্দ্রেই ভোটকর্মীদের জন্য ভোটদানের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।কাউন্টার বিন্যাসের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। রায়গঞ্জ ডিসিআরসি-তে মোট ৯৫টি কাউন্টার রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হেমতাবাদ ও করণদিঘির জন্য ২০টি করে, রায়গঞ্জের জন্য ১৫টি, ইটাহারের জন্য ১৮টি এবং কালিয়াগঞ্জের জন্য ২২টি কাউন্টার নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও অ্যাটেনডেন্স, অনুসন্ধান, এসএমএস, পেমেন্ট এবং রিজার্ভ ট্যাগিং-এর জন্য আলাদা কাউন্টার রাখা হয়েছে।অন্যদিকে ইসলামপুর কলেজ ডিসিআরসি-তে মোট ৫৯টি কাউন্টার রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চোপড়া বিধানসভার জন্য ১৬টি, ইসলামপুরের জন্য ১৫টি এবং গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ার জন্য ১৪টি করে কাউন্টার নির্ধারিত হয়েছে।সব মিলিয়ে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণের।