“রায়গঞ্জে রাহুলের ‘ডাবল অ্যাটাক’: তৃণমূলই বিজেপির শক্তি—মোদী-মমতা দু’পক্ষকেই তোপ”

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ১৪ এপ্রিল: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহে Raiganj-এ জনসভা করে সরাসরি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস—দুই প্রধান প্রতিপক্ষকেই একযোগে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi।মঙ্গলবার রায়গঞ্জের জনসভা থেকে রাহুল গান্ধীর স্পষ্ট বার্তা—“বাংলায় বিজেপিকে সুযোগ করে দিচ্ছে তৃণমূলই।” তাঁর অভিযোগ, একদিকে যেমন Narendra Modi নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ক্ষতি করছে, অন্যদিকে রাজ্যে Mamata Banerjee-র সরকারও সমানভাবে মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে বাংলার মানুষ দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বলেই দাবি তাঁর।কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, “বাংলার জন্য কিছুই বরাদ্দ হয়নি।” একইসঙ্গে দুর্নীতির ইস্যুতে বিজেপি ও তৃণমূল—উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি। তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতিপরায়ণ হলে তৃণমূলও কোনও অংশে কম নয়।”আরএসএস ও বিজেপিকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেশের সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। “আমাদের লড়াই এই ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে,”—জোরালো সুরে বলেন তিনি।মোদীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়ে রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে চোখ মিলিয়ে কথা বলতে পারেন না। এমনকি আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব রয়েছে—যদিও এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।শিল্পপতি Gautam Adani-র সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, “এটা আদানি কোম্পানি নয়, ‘মোদানি’ কোম্পানি—অর্ধেক মোদীর, অর্ধেক আদানির।”শুধু বিজেপি নয়, তৃণমূলকেও তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, “তৃণমূলকে ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও লাভ হয়নি, বরং সিন্ডিকেট রাজই বেড়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—“এখন ৮৪ লক্ষ মানুষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করছে, এটা কি প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ?”এদিনের সভা থেকে সারদা মামলায় লক্ষ লক্ষ আমানতকারীর টাকা ফেরত না পাওয়া, কয়লা দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড—সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি বাংলায় শিল্পক্ষেত্রের অধঃপতন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধ্বংস হয়েছে, আর দেশে শিল্পকে ধ্বংস করছে কেন্দ্রীয় সরকার।”জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী Mohit Sengupta, ইটাহারের প্রার্থী অমল আচার্য-সহ জেলার একাধিক কংগ্রেস নেতা। এছাড়াও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Priya Ranjan Dasmunsi-র সহধর্মিণী তথা কংগ্রেস নেত্রী Deepa Dasmunsi উপস্থিত ছিলেন।সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের এই জনসভা থেকে কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিল—বাংলায় তারা বিজেপি ও তৃণমূল, দুই শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই আক্রমণাত্মক প্রচার কতটা প্রভাব ফেলে।