“প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে টাঙন নদীতে অবাধ বালি তোলা, রাতেই সক্রিয় মাফিয়ারা”
তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঘচা গ্রামে অবৈধ বালি তোলাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, বাস্তবে সেই নির্দেশ যে কতটা মানা হচ্ছে, তার এক উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে এই এলাকা থেকে।স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পর থেকেই শুরু হচ্ছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে রাত আটটার পর বাঘচা গ্রাম সংলগ্ন “টাঙন নদী নদীতে একের পর এক ট্রাক্টর নামিয়ে বালি তোলার কাজ চলে রমরমিয়ে। অভিযোগ, প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক্টর একসঙ্গে নদীতে নেমে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বালি তোলে এবং সেগুলি দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে দেওয়া হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসীর দাবি, “সন্ধ্যা হতেই আমাদের গ্রামের রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টরের লাইন পড়ে যায়।

শব্দ আর ধুলোয় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি আমরা। রাতভর এই কাজ চলতে থাকে, কিন্তু কেউ কোনও বাধা দিতে আসে না।”আরও এক বাসিন্দা বলেন, “সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযানও চালায়। কিন্তু কিছুদিন শান্ত থাকার পর আবার একইভাবে শুরু হয়ে যায় এই অবৈধ বালি তোলা। এতে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই সরকারের রাজস্বেরও বড়সড় ক্ষতি হচ্ছে।”গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বা অনেক ক্ষেত্রে চোখে ধুলো দিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণীর বালি মাফিয়া। রাতের অন্ধকারকে হাতিয়ার করেই তারা এই অবৈধ ব্যবসা রমরমিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের দাবি, অবিলম্বে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই অবৈধ বালি তোলার রমরমা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন বালি তোলা চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
