কালিয়াগঞ্জে জাল লটারির রমরমা কারবার: ‘শর্টকাটে’ বড়লোক হওয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

তন্ময় চক্রবর্তী: :-রাতারাতি ভাগ্য বদলানোর নেশা নাকি চরম সর্বনাশ? উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহর ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারি অনুমোদিত লটারির আড়ালে কালিয়াগঞ্জ জুড়ে জাঁকিয়ে বসেছে অবৈধ ‘জাল’ লটারি বা স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘ঝাল ঝিলি’। বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জনের এই মরণফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন নিঃস্ব হচ্ছেন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে অবাধে চলছে এই কারবার, যার জেরে বিঘ্নিত হচ্ছে সামাজিক শান্তি।​সাংকেতিক কোডেই লুকিয়ে জালিয়াতির রহস্যঅনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, কালিয়াগঞ্জে আসল লটারিকে টেক্কা দিয়ে রমরমিয়ে চলছে এই জাল লটারির ব্যবসা। এই লটারি চেনার একমাত্র উপায় হলো টিকিটে থাকা বিশেষ কিছু ‘সাংকেতিক কোড’। লটারি নম্বরগুলোর পাশে SM, , ML1, SN, RG4, SN9, RL, NL-এর মতো কোড ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কারবার চালাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি জাল।​কোথায় চলছে এই কারবার?​সূত্রের খবর, কালিয়াগঞ্জের ধনকৈল, বীরগই, পূর্ব তরঙ্গপুর এবং পাশের ব্লকের হেমতাবাদ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জাল লটারির জাল ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে পুলিশি তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ থাকলেও, অল্পদিন পরেই ফের স্বমহিমায় ফিরছে এই অবৈধ ব্যবসা। অনেক জায়গায় টেবিল পেতে প্রকাশ্যে এই টিকিট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। কোনো টিকিটের দাম ৬০ টাকা, আবার কোনোটির দাম ১২০ টাকা।​পুরস্কারের টোপ ও রাজস্ব ফাঁকি​জানা গিয়েছে, এই লটারিগুলোতে সরকার স্বীকৃত লটারির তুলনায় পুরস্কার মূল্য অনেক কম দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত লাভের আশায় এবং কম সময়ে বেশি টাকা পাওয়ার লোভে এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলায় সরকার এখান থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না, ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, সরকারি লটারির বিক্রিও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।​বিপর্যস্ত জনজীবন ও পারিবারিক অশান্তি​এই লটারির নেশা কেবল পকেটই খালি করছে না, ভাঙন ধরাচ্ছে পরিবারেও। লটারির পেছনে প্রতিদিন টাকা নষ্ট করার ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে অশান্তি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর পকেট ভরাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম হচ্ছে।​স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই জাল লটারির ডেরাগুলোতে হানা দিয়ে মূল পান্ডাদের গ্রেফতার করা। নাহলে এই ‘সর্বনাশা নেশা’ কালিয়াগঞ্জের বহু পরিবারকে চিরতরে পথে বসিয়ে দেবে।