করণদিঘিতে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, পাল্টা জবাব গৌতম পালের
উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম পালের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাসের অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কার্যকর হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কঠোর বিধি-নিষেধ।

কিন্তু সেই নিয়মকে অগ্রাহ্য করে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল সাধারণ মানুষকে অর্থ ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে প্রলোভন দেখাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এইভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।বিরাজ বিশ্বাস আরও বলেন, “তৃণমূল প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন যে এই ধরনের প্রলোভন ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি বেআইনি পথ অবলম্বন করছেন।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।এছাড়াও বিজেপি প্রার্থী অভিযোগ করেন, বাইরের লোকজন এই জেলায় এসে নিজেদের ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে এবং জাল আবাসিক বা অন্যান্য শংসাপত্র তৈরি করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তাঁর কথায়, “এই ধরনের নোংরা রাজনীতি থেকে করণদিঘিকে মুক্ত করতে হবে।”ইতিমধ্যে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিরাজ বিশ্বাস। তিনি জানান, জেলাশাসকের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, গতকাল দুপুরে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে এই অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম পাল। তিনি বলেন, “আমি কোনওভাবেই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করিনি। নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম সম্পর্কে আমার পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে। আগের নির্বাচনে আমি নিয়ম মেনেই লড়াই করে জয়ী হয়েছি, এবারও সেই পথেই এগোচ্ছি।”গৌতম পালের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং ভোটের আগে বিরোধীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে করণদিঘির রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে কতটা পড়ে।

