কালিয়াগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থীর বিস্ফোরক মন্তব্য! ‘সন্ন্যাস থেকে রাজনীতি—কিসের লোভে?’ প্রশ্ন নিতাই বৈশ্যর 🔥

তন্ময় চক্রবর্তী :- উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রার্থী ঘোষণা হতেই শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। এরই মধ্যে বিজেপি প্রার্থী উৎপল মহারাজকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নিতাই বৈশ্য।একান্ত সাক্ষাৎকারে নিতাই বৈশ্য বলেন,“আমরা যখন রাজনীতিতে নামি, তখন প্রতিপক্ষকেই দেখি। কিন্তু যিনি আজ বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তিনি যখন স্বামীজি ছিলেন, তখন আমি তাঁকে আন্তরিক শ্রদ্ধা করতাম। তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতাম।

সেই জায়গাটা আমার কাছে আলাদা ছিল।”তিনি আরও বলেন,“স্বামীজিরা সাধারণত ত্যাগী জীবনযাপন করেন, তাঁদের অসংখ্য ভক্ত ও শিষ্য থাকে। কিন্তু আজ সেই ত্যাগী মানুষ রাজনীতিতে নামছেন—কিসের লোভে, কিসের আশায়—সেটাই বড় প্রশ্ন। আমরা তো জানি, জীবনের শেষ পর্যায়ে মানুষ সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, কিন্তু এখানে ঠিক উল্টো চিত্র দেখছি।”নিজের রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে নিতাই বৈশ্য জানান,“আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যখন লড়াইয়ে নামি, তখন অলআউট হয়ে নামি। আমি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।

গত প্রায় কুড়ি বছর ধরে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে জেলা পরিষদ স্তরে কাজ করেছি, মানুষের আশীর্বাদ সবসময় আমার সঙ্গে রয়েছে।”দল তাঁকে প্রার্থী করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন,“দল আমাকে গুরুত্ব দিয়েছে, কর্মীরাও আস্থা রেখেছে—সেই কারণেই আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি যারা আমার দল করেন না, তাঁদের প্রতিও আমি সম্মান জানাই।”কালিয়াগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন,“কালিয়াগঞ্জ একটি অত্যন্ত সুন্দর ও সৃজনশীল এলাকা।

এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও বাকি। ৫০ বেডের হাসপাতালকে ২৫০ বেডে উন্নীত করার অনুমোদন হয়েছে, বিল্ডিংও তৈরি হয়েছে। এখন সেখানে চিকিৎসক, পরিকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি আনতে হবে—যা একজন বিধায়কের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সম্ভব নয়।”এছাড়াও বিদ্যুৎ সমস্যার দিকেও নজর দিয়ে তিনি বলেন,“গত এক বছরে এখানে বিদ্যুতের সমস্যা প্রকট হয়েছে। একটি পাওয়ার স্টেশন অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই কাজগুলো আমরা করতে পারব, যদি কালিয়াগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নির্বাচিত হয়।”শেষে তিনি বলেন,“রাজনীতি পরে হবে, তার আগে দরকার উন্নয়ন। কালিয়াগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারে—এমন একজন বিধায়ক দরকার। আমি সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যে কালিয়াগঞ্জের নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। এখন দেখার, এই বাকযুদ্ধ ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।