দুই বছরে সাংসদ তহবিলের ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকায় উন্নয়নের একাধিক কাজ: রায়গঞ্জবাসীর সামনে হিসাব দিলেন সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল

তন্ময় চক্রবর্তী , রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য গত দুই বছরে সাংসদ তহবিলের প্রায় ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানালেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। রবিবার এক বক্তব্যে তিনি রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সামনে গত দুই বছরের উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, রায়গঞ্জের মানুষ তাকে যে আস্থা ও সমর্থন দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি সাংসদ তহবিলের অর্থ সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যবহার করেছেন। গত দুই বছরে লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় আলো, জল, শ্মশানঘাট, কমিউনিটি সেন্টার সহ একাধিক পরিকাঠামোগত কাজ শুরু হয়েছে।তিনি জানান, সাংসদ তহবিলের অর্থে প্রায় ৭৩টি শ্মশানঘাটের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় হাইমাস্ট ও সোলার লাইট বসানোর কাজ চলছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০টির মতো লাইট বসানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও লাইট বসানো হবে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার, টয়লেট ব্লক, যোগা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিধানসভা ভিত্তিক উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন সাংসদ। তিনি জানান, ইসলামপুর এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার কাজ অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে আলো, জল ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ রয়েছে। গোয়ালপুকুর এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকার কাজ, যার মধ্যে লাইট, জল ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এছাড়াও চাকুলিয়া এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার কাজ, করণদিঘী বিধানসভায় প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, এবং কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে আলো, পানীয় জল ও শ্মশানঘাটের উন্নয়নের কাজ রয়েছে।রায়গঞ্জ বিধানসভা এলাকায় মারাইকুড়াতে কমিউনিটি সেন্টার, আলো ও জল প্রকল্প, এবং হেমতাবাদে ভৈরবী মন্দির এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাকরসিং এলাকায়ও একটি কমিউনিটি সেন্টারের কাজ নেওয়া হয়েছে।সাংসদ আরও জানান, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR)-এর মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে বহু মহিলাকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ওপেন জিম ও অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থার কাজও অনুমোদিত হয়েছে।এদিন তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে রায়গঞ্জ ও ইসলামপুরে ফ্লাইওভার নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। পাশাপাশি টঙ্গীদিঘি, পান্জিপাড়া ও কানকিতেও ফ্লাইওভার নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে।এছাড়া ডালখোলা শহরে জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় দেড় কোটি টাকার আলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ডালখোলা থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকার আলোর টেন্ডার হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে উচ্চ বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজও শুরু হয়েছে। একইভাবে ডালখোলা থেকে রূপাহার পর্যন্ত প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকার উচ্চ বাতিস্তম্ভ বসানোর অনুমোদন হয়েছে।সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “এগুলো কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, সাংসদ হিসেবে মানুষের স্বার্থে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। কিছু কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কিছু কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”তিনি আরও বলেন, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের উপর থেকে ‘পিছিয়ে পড়া জেলা’ তকমা দূর করাই তার মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে নতুন রেল লাইন সহ আরও বেশ কিছু বড় প্রকল্পের দাবি নিয়ে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।শেষে রায়গঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাংসদ বলেন, “আপনারা যেভাবে আমাকে বিশ্বাস করেছেন, আগামী দিনেও আপনাদের আশীর্বাদ ও সমর্থন নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”এদিনের বক্তব্যে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন সাংসদ রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল।