ভোটের আগে ফোন-রাজনীতি! প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করে ‘মোদি বন্দনা’ শোনানোর নিদান বিজেপি নেতৃত্বের

তন্ময় চক্রবর্তী :- ইস্যু হারিয়ে কার্যত দিশেহারা বিজেপি। ভিনরাজ্যের নেতা এনে, বড় বড় সভা করেও বাংলায় প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। আর তাই ভোটের মুখে এবার দলের নেতা-কর্মীদের জন্য এক অভিনব ও বিতর্কিত নিদান জারি করল গেরুয়া শিবির। নির্দেশ স্পষ্ট—প্রতিদিন অন্তত ১০ জনকে ফোন করে শোনাতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুণগান।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফোনের ওপার থেকে যাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে, তাঁর রাজনৈতিক মনোভাব বুঝে নেওয়াই মূল লক্ষ্য। কথার মারপ্যাঁচে বুঝতে হবে, তিনি আদৌ পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিতে আগ্রহী কি না। যদি ইতিবাচক মনোভাব বোঝা যায়, তাহলে কয়েক মিনিট কথা বলেই ফোন রাখা যাবে।

কিন্তু যদি বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনও বিজেপিকে ‘ভরসা’ করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁকে প্রভাবিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে চলবে ‘মগজ ধোলাই’-ও—এমনটাই দাবি রাজনৈতিক মহলের।দলীয়ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ফোন করা মানে নিছক খোশগল্প নয়। রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিকেই ফোন করতে হবে। প্রাথমিক সৌজন্যের পরেই ঢুকে পড়তে হবে মূল রাজনৈতিক আলোচনায়। কোন কোন বিষয়ে কথা বলে ভোটারকে প্রভাবিত করতে হবে, তারও নির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটের দিন পর্যন্ত নিয়মিত এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে বলেও নির্দেশ।একই ব্যক্তিকে প্রতিদিন ফোন করা যাবে না। রোজ নতুন করে ১০ জনকে বেছে নিতে হবে। ফোন যাঁদের করা হবে, তাঁদের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বা জেলার বাসিন্দা হওয়ারও কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তের মানুষের সঙ্গেই কথা বলা যাবে। তবে যেহেতু এটিকে জনমত সমীক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাই কোন এলাকা থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া মিলছে, ফোনে কথা বলা মানুষজন নিজেদের এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব সম্পর্কে কী মতামত দিচ্ছেন—তার খসড়া রিপোর্ট দলকে জমা দিতে হবে।দলের নির্দেশ মতো নেতা-কর্মীরা ঠিকঠাক ফোন করছেন কি না, সেই বিষয়েও নজরদারি চালাবে গেরুয়া শিবির।এই প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জের এক বিজেপি নেতা বলেন,“দলের নির্দেশ মেনে আমি প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করছি। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অনেকদিন পর যোগাযোগ হচ্ছে। ফোনে যাঁদের সঙ্গে কথা বলছি, তাঁদের প্রায় সকলেই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।”জেলা বিজেপির আর এক নেতার দাবি,“প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করার কাজ দলের নেতা-কর্মীরা খুব ভালোভাবেই করছেন। তাঁদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।”