পুরনো রেলের কামরায় নতুন স্বাদ ও নতুন রূপ—রায়গঞ্জ স্টেশনে চালু হল অভিনব রেল কোচ রেস্তোরাঁ
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ | ৪ ফেব্রুয়ারি:পরিত্যক্ত বা বাতিল রেল কামরাকেও যে অভিনব রূপ দিয়ে আধুনিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রেল দপ্তর। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ রেল স্টেশনে পুরনো একটি রেল কোচকে অত্যাধুনিক সাজে সজ্জিত করে চালু হল এক অভিনব রেল কোচ রেস্তোরাঁ।মঙ্গলবার রায়গঞ্জ রেল স্টেশনে এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই রেস্তোরাঁর শুভ সূচনা করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার কীরেন্দ্র নারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক রায়, রেল দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এই রেল কোচ রেস্তোরাঁর মাধ্যমে রেল দপ্তর কার্যত দেখিয়ে দিল—পুরনো একটি কামরাকে বাতিল না করে কীভাবে সেটিকে আধুনিক রূপ দিয়ে জনসাধারণের জন্য উপযোগী করে তোলা যায়। রেল কোচটির ভেতরে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আধুনিক বসবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০ জন অতিথির বসার ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু তাই নয়, রেস্তোরাঁর বাইরেও প্রায় ১০০ জনের বসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।রেল কোচ রেস্তোরাঁর বাইরের দেওয়ালে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আঁকা হয়েছে গাছপালা ও পশুপাখির ছবি, যা পথচলতি মানুষদের চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আকর্ষণ করছে। এই শৈল্পিক সাজই রেস্তোরাঁটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।উদ্বোধনের আগেই এই অভিনব রেল কোচ রেস্তোরাঁ দেখার জন্য রায়গঞ্জ স্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখযোগ্যভাবে, যেদিন রায়গঞ্জ রেল স্টেশনের রেললাইন থেকে পুরনো রেল কামরাটিকে বিশালাকার ট্রাকে তুলে বর্তমান রেস্তোরাঁর স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিন থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ তৈরি হয়।রেস্তোরাঁ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রিয়ব্রত দুবে জানান, এই রেল কোচ রেস্তোরাঁয় অতিথিদের জন্য থাকছে অসাধারণ সুস্বাদু খাবারের সম্ভার। তিনি বলেন,“এখানে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তুলাইপাঞ্জি চালের সুগন্ধ ভাতের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পদ, পাশাপাশি ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি বিদেশি রান্নার বিশেষ পদও পাওয়া যাবে।”রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই রেল কোচ রেস্তোরাঁ শুধু খাবারের জায়গা নয়, বরং রায়গঞ্জ স্টেশনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সব মিলিয়ে, পুরনো রেলের কামরাকে নতুন প্রাণ দিয়ে রায়গঞ্জে যে এক অভিনব উদ্যোগ শুরু হল, তা নিঃসন্দেহে উত্তর দিনাজপুরের জন্য একটি নতুন সংযোজন।




