সম্পর্কের ভোর, সম্মানের আলো—কালিয়াগঞ্জে আইসি দেবব্রত মুখার্জীর স্মরণীয় বিদায়
তন্ময় চক্রবর্তী ভোরবেলার আলোয় শরীরচর্চা, খেলাধুলা আর সমাজসেবার বার্তা নিয়ে যাঁরা প্রতিদিন একত্রিত হন—সেই সংগঠন ‘ভোরের আলো’–র পক্ষ থেকে আজ উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানায় এক মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে কালিয়াগঞ্জ থানার বিদায়ী আইসি দেবব্রত মুখার্জী–কে সংবর্ধনা জানানো হয়।সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী আইসি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে তিনি যে ভীষণভাবে আপ্লুত—তা তাঁর চোখেমুখেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ‘ভোরের আলো’ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠন একদিকে যেমন নিয়মিত ফুটবল খেলা ও শরীরচর্চার চর্চা করে, তেমনি অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে।
এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত কুমার ব্যানার্জি, উজ্জ্বল দাস, সুশান্ত দাস, অভিজিৎ রায়, বিশাল রায়, সনজিত রায়, বিট্টু ও জীবন সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।ভোরের আলোর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়ন্ত কুমার ব্যানার্জি বলেন,“আমরা কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নই। আমরা সাধারণ মানুষ, যারা ভোরে উঠে শরীরচর্চা করি, খেলাধুলা করি এবং সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। দেবব্রত মুখার্জী একজন পুলিশ অফিসার হিসেবেই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও আমাদের কাছে স্মরণীয়। তাঁর মানবিক আচরণ, সাধারণ মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা আমাদের সকলকে ছুঁয়ে গেছে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই আজকের এই ছোট্ট সম্মান।”বিদায়ী আইসি দেবব্রত মুখার্জী সংবর্ধনা গ্রহণ করে বলেন,“কালিয়াগঞ্জে কাজ করতে গিয়ে আমি শুধু দায়িত্ব পালন করিনি, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। ভোরের আলোর মতো একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের কাছ থেকে এমন সম্মান পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এই ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব।”অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক আবেগের ছোঁয়া। ইউনিফর্মের বাইরে একজন মানুষ হিসেবে পুলিশ আধিকারিককে সম্মান জানানোর এই মুহূর্ত কালিয়াগঞ্জে এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে রইল—এমনটাই মত উপস্থিত সকলের।








