সংগঠিত হিন্দু সমাজই শক্তিশালী দেশের ভিত্তি—কালিয়াগঞ্জে হিন্দু সম্মেলনে একযোগে বার্তা
তন্ময় চক্রবর্তী ঃ– কালিয়াগঞ্জ শহরের মহেন্দ্রগঞ্জ নাটমন্দির প্রাঙ্গণে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বিশাল হিন্দু সম্মেলন। হিন্দু সম্মেলন আয়োজক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক শক্তিশালী বার্তা উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা স্বামী জ্যোতিময়ানন্দজী মহারাজ (ভারত সেবাশ্রম সংঘ) তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংগঠিত ও সচেতন হিন্দু সমাজই দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। তিনি যুবসমাজকে ধর্ম, সেবা ও শৃঙ্খলার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।আর এস এস-এর বিভাগ সংঘ চালক অপূর্ব কুমার দাস বলেন, হিন্দু সমাজকে সামাজিকভাবে আরও সংগঠিত করতে হলে প্রতিটি পরিবার থেকেই সংস্কার ও শৃঙ্খলার চর্চা শুরু করতে হবে। তিনি সমাজ গঠনে স্বেচ্ছাসেবার ভূমিকার উপর জোর দেন।পতঞ্জলি যোগ সমিতির রাজ্য প্রভারী ডা. জয়ন্ত দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে ধর্মীয় চেতনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যোগ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে সমাজকে সুস্থ ও শক্তিশালী করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
![]()
পুরোহিত মঞ্চ কালিয়াগঞ্জের প্রতুল কুমার মজুমদার বলেন, হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আজ সময়ের দাবি। সমাজে ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখতে পুরোহিত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।শ্রীবাস অঙ্গনের গোসাই গোবিন্দ দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভক্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধই হিন্দু সমাজের মূল শক্তি। এই মূল্যবোধকে সামনে রেখেই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।অন্যদিকে নাট মন্দির সমিতির প্রকাশ কুন্ডু বলেন, সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার মধ্য দিয়েই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করা সম্ভব। সামাজিক আন্দোলনে সাংস্কৃতিক মঞ্চের ভূমিকার কথাও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।সম্মেলন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও বৃহৎ পরিসরের কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠিত হিন্দু সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।





